মেহেরপুরের গাংনী বাজারে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য ও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝুমকা (২৬) ও নদী (২৬) নামে দুই হিজড়া সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে গাংনী বাজারের মাছের আড়ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত ঝুমকা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের সন্তান। অন্যদিকে আহত নদী মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের মুকুল হোসেনের সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝুমকা নাম পরিবর্তন করে ‘চাঁদনী’ পরিচয়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের দোপপাড়া এলাকার এক যুবককে বিয়ে করে গোপনে সংসার করছেন। একই সঙ্গে তিনি হিজড়া পরিচয়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে টাকা তোলার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাংনী পৌর এলাকার হিজড়া সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণকর্তা (গুরুমা) নুপুর খাতুন (৫০) গাংনী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকার গাজী আব্দুল্লাহর মেয়ে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েকদিন আগে থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে বুধবার (৮ এপ্রিল) পুনরায় বসার দিন নির্ধারণ করা হলেও ঝুমকা সেখানে উপস্থিত হননি।
নুপুর খাতুন জানান, তাদের গোত্রের নিয়ম অনুযায়ী কেউ বিয়ে করে সংসার করলে সে আর হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে থাকতে পারে না। কিন্তু ঝুমকা বিয়ে করে স্বামী নিয়ে সংসার করেও হিজড়া পরিচয়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে টাকা তুলছেন। বিষয়টি নিষেধ করা হলেও তিনি তা মানছেন না।
তিনি আরও জানান, ঝুমকার সমর্থনে নদী নামে আরেকজন হিজড়া রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ঝুমকাকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে নদীকেও মারধর করা হয় বলে তিনি শুনেছেন। তবে কারা বা কী উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
এ বিষয়ে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাস বলেন, হিজড়া সদস্যকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।