পালকির বিকল্প হিসেবে একসময় বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী ছিল রিক্সার ব্যবহার। কালের বিবর্তনে মেহেরপুরের গাংনীতে হারিয়ে গেছে এলাকার চিরচেনা যানবাহন রিক্সা। এলাকার উপজেলা শহর ও বিভিন্ন বাজারগুলোর একমাত্র যানবাহন ছিল এটি। অনেকে বাস থেকে নেমেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সাচালকদের বলতো এই রিক্সা যাবে ? বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়াতে চিরচেনা সেই রিক্সার স্থান দখল করে নিয়েছে পাখিভ্যান, অটোবাইক, সিএনজি ও ইজিবাইক নামে বিভিন্ন যানবাহন। যা পরিচালনা করার জন্য আর প্রয়োজন পড়েনা কায়িক পরিশ্রমের। কোনটা চলে বৈদ্যুতিক রিচার্জেবল ব্যাটারিতে আবার কোনটাতে ডিজেল ও গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। কায়িক পরিশ্রম না থাকায় অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারের বেকার যুবকরাও ঝুঁকছে এ পেশায়। প্রায় পনেরো থেকে বিশ বছর আগে দেখা গেছে, সমাজের যারা অভিজাত শ্রেণীর মানুষ তাদের বাড়ির সামনে এক থেকে দুইটা রিক্সা সবসময় থাকত। নিজেদের প্রয়োজনে সেই রিক্সা ব্যবহার করা হতো। রিক্সার বর্তমান পাখিভ্যানের মত তিনটা চাকা থাকলেও উপরে হুট ছিল। ইচ্ছা করলেই হুট প্রসারিত বা গুটিয়ে রাখা যেত। অভিজাত পরিবারের মেয়েদের যাতে কেউ দেখতে না পায় সেজন্য হুটের চারপাশে একটি আলাদা শাড়ি বা কাপড় দিয়ে পেচিয়ে রিক্সা চলাচল করত। রাতে চলাচলের জন্য রিক্সার নিচে হারিকেন কেউবা কুপী ব্যবহার করতেন। তবে রিক্সাতে কেবলমাত্র দুই জন যাত্রী চলাচল করতে পারত। কখনো কখনো দুই পাশে দুইজন পা ভেঙে দাঁড়িয়ে মাঝখানে আরো একজন বসা অবস্থাতেও কিছু কিছু রিক্সা চলতে দেখা যেত। এলাকার অনেক মানুষের একমাত্র উপার্জনের উৎস ছিল এ রিক্সা। অনেকে রিক্সা চালিয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের মানুষের মত মানুষ করেছেন। অনেকে আবার পরিমাণে একটু বেশী উপার্জনের আশায় খুলনা, রাজশাহী এমনকি রাজধানী শহর ঢাকাতে গিয়ে রিক্সা চালিয়ে তার সংসার পরিবার পরিজনকে নির্বাহ করতেন। মানুষ আধুনিকতার ছোঁয়া ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে নিয়েছেন। এতে একদিকে যেমন যাত্রী বেশী বহন করতে পারছে, তেমনি আয়ও বেশি হচ্ছে। সেইসাথে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময়ও কম লাগায় রিক্সার জায়গা দখল করে নিয়েছে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন চালিত যানবাহন গুলো। তবে বর্তমানে অভিজাত পরিবারে স্বাধীন ও স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেড়েছে আশানুরূপ হারে। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার কারণে অনেকে আবার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারে ও চলাচল করতে দেখা যায়।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জান আলীর ছেলে খায়রুল ইসলাম জানান, রিক্সাতে মাত্র দুইটা যাত্রী বহন করা যেত আর পাখি ভ্যানে ৪-৬ জন যাত্রী বহন করা যায়। তাছাড়া বিভিন্ন মালামাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে বহন করা সম্ভব হয়। পাখিভ্যান বৈদ্যুতিক রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চলে ফলে কায়িক পরিশ্রম নেই তাই রিক্সা পরিবর্তন করে তিনি পাখিভ্যান চালনা করছেন। গাংনী বাজারের রিক্সা-ভ্যানচালক সমিতির পক্ষে গাংনী বাজার কমিটির সভাপতি মাহবুবুল হক স্বপন জানান, দেশে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিভিন্ন যানবাহন তৈরি করা হচ্ছে ফলে মানুষ ও আধুনিক যানবাহন ব্যবহার শুরু করেছে। একটি রিক্সাতে যে কয়টি যাত্রী বহন করা যেত অল্প সময়ে তার চেয়ে তিনগুণ যাত্রী বহন করা সম্ভব হচ্ছে পাখিভ্যান, সিএনজি, অটোরিক্সা গুলোতে ফলে কালের বিবর্তনে স্থান দখল করে নিয়েছে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন চালিত যানবাহন।