মেহেরপুরের গাংনীতে গরুবাহী শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ‘লাটাহাম্বা’ গাড়ি উল্টে উজ্জল হোসেন (৪০) নামের এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা আরও ১০ জন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। এছাড়া গাড়িতে থাকা ৮টি গরুর মধ্যে ২টি গরুও জখম হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রায়পুর বাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত উজ্জল হোসেন মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের সহিদুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় রায়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, দুপুরে ১১জন গরু ব্যবসায়ী লাটাহাম্বা গাড়িতে করে গরু কেনাবেচার উদ্দেশ্যে আলমডাঙ্গা গরুর হাটে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি রায়পুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় গাড়িটি রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা দুটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল দুটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং লাটাহাম্বা গাড়িটিও রাস্তার ওপর উল্টে পড়ে। ঘটনার সাথে সাথে গাড়িতে থাকা গরু ও মানুষ নিচে চাপা পড়েন। স্থানীয় জনতা দ্রুত এগিয়ে এসে সবাইকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ১০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন:মেহেরপুর সদর উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের আলিমুদ্দিন শেখের ছেলে রহিদুল ইসলাম (৫০), একই গ্রামের ফেলা মীরের ছেলে রাজা (৪৫), মেহেরপুর সদরের যাদবপুর গ্রামের আলিমুদ্দিনের ছেলে নাজমুল হক (৪০), মুজিবনগর উপজেলার মনা খালি গ্রামের দুলাল উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৫০), একই গ্রামের জহুর মন্ডলের ছেলে সাবদার আলী (৪৫), ও রফিকুল ইসলাম (৪০), চকশ্যামনগর গ্রামের এজারুল ইসলামের ছেলে কবির হোসেন (৩৫), একই গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে ওসমান আলী (৪৫), ইসমাইল হোসেনের ছেলে ইসরাফিল আলম (৫০) ও রাধাকান্তপুর গ্রামের লিটন (৩৫)।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সামিয়া সুলতানা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এলাকাবাসী দুর্ঘটনা কবলিত ১১ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে উজ্জল নামের ওই ব্যক্তি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর ৫ জনকে কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়েছে।”
গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, “গরুবাহী গাড়ি উল্টে একজন নিহত ও ১০ জন আহতের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি নিজে টিমসহ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছি এবং সার্বিক সহযোগিতা করেছি। গাড়ির গরুগুলোকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”