মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল আহমেদ এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন মিঠু। রোববার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে ঠিকাদার মিঠু তার হাসপাতাল বাজারে এইচএম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ এর বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহনের উদ্দেশ্য অযথা হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, তিনি এলজিইডি কর্তৃক নিবন্ধিত একজন ঠিকাদার। মটমুড়া ভুমি অফিসের বিল্ডিং নির্মাণের কাজটি লটারির মাধ্যমে পেয়ে সিডিউল মোতাবেক প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিল্ডিং নির্মাণ করেন তিনি।
বিল্ডিং নির্মাণের কাজ চলাকালীন সময়ে গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল আহমেদ ও তার সহকারিরা একাধিকবার কাজের গুনগত মান যাচাই করেন। ইতোমধ্যে গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাপ আলী শেখ পরিবর্তন হলে ফয়সাল আহমেদ তার স্থলাভিষিক্ত হন।
১০/১০/২০২১ ইং তারিখে বিল্ডিং এর নির্মাণ কাজ শুরু করে সিডিউল মোতাবেক কার্যক্রম শেষ হলে বর্তমানে তা হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রকোশলী ফয়সাল আহমেদ যোগদানের পর তাকে ৩%, সহকারী আলাউদ্দিনকে ২%, ও সার্ভেয়ার আক্তরুজ্জামানকে ১% টাকা দিতে হয়েছে। প্রায় ৮ মাস আগে বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হলেও তা বুঝে না নিয়ে দফায় দফায় ভুল ধরে হেনস্থা এবং টাকা আদায়ের অভিযোগ তোলেন তিনি।
অন্যদিকে অনেকগুলো টাকা আটকে থাকায় ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন মিঠু বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর নিকটে ঋণী হয়ে রয়েছেন। ব্যবসায়ীরাও টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিতে শুরু করেছে।
রোববার (১১ ডিসেম্বর) সকালে সহকারি শহিদুল ইসলামকে নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মটমুড়া ইউনিয়নের বাওট গ্রামে নবনির্মিত ভূমি অফিসের ভবন পরিদর্শনে যান। এ সময় ঠিকাদার মিঠু উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমদকে বিল্ডিং বুঝে নিয়ে বিল পরিশোধের অনুরোধ জানান।
উপজেলা প্রকৌশলী এ বিষয়ে শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি ১০ হাজার টাকা উপজেলা প্রকৌশলীকে দেয়ার পরামর্শ দেন।
এই কথা শুনে ঠিকাদার মিঠু জানান, টাকা অনেক দিয়েছি আর না বলে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে প্রয়োজনে তিনি ডিসি ও ইউএনওকে বিষয়টি জানাবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
এই ঘটনার পর উপজেলা প্রকৌশলী মিঠুর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলেন ঠিকাদার মিঠু।
এ থেকে পরিত্রাণ পেতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। প্রয়োজনে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানিয়েছেন ঠিকাদার মিঠু।
এলজিইডি অফিসের সহকারি শহিদুল ইসলামকে শারীরিকভাবে কেন লাঞ্ছিত করা হয়েছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ঠিকাদার মিঠু জানান, অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে তাকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে এ নাটক সাজানো হয়েছে। এ ধরনের কোন ঘটনা সেখানে ঘটেনি। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)
ফয়সাল আহমেদ ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন মিঠুর অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি সিডিউল মোতাবেক শতভাগ কাজ সমাপ্ত করেননি। রোববার (১১ ডিসেম্বর) মটমুড়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসের বিল্ডিং এর কাজের পরিদর্শনের জন্য সহকারী শহিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাওট গ্রামে গেলে ঠিকাদার মিঠু তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বাদ-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তার সরকারি শহীদুল ইসলামকে কিলঘুসি মেরে আহত করেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।