বর্তমানে আমাদের চারপাশে দৃষ্টিনন্দন বেষ্টনীতে ঘেরা অনেক কবরস্থান দেখা যায়। কিছু কিছু কবরস্থানের আঙ্গিনায় গড়ে উঠেছে অজুখানা বা রোদ বৃষ্টি থেকে পরিত্রাণ পেতে মরদেহ রাখার ঘর। প্রয়োজনের তাগিদে মরদেহ সংরক্ষণ করে রাখার ভবন এলাকায় তেমন একটা চোখে পড়ে না। নিতান্তই প্রয়োজন হলে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এম্বুলেন্স ভাড়া করে মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে দেখা যায়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারকে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা।
নতুন খবর হলো, মেহেরপুরের কাথুলী ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া গ্রামে মরদেহ সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দারুল আখেরাত নামে কবরস্থানে এই প্রথম শীততাপ নিয়ন্ত্রিত একতলা বিশিষ্ট একটি ‘অন্তিম শান্তি নিবাস’ ভবন তৈরি করা হয়েছে। এখানে বেশ কয়েকদিন মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফলে মরদেহ সংরক্ষণে এলাকাবাসীকে গুনতে হবে না বাড়তি কোন টাকা পয়সা।
তাছাড়া কবরস্থান বেষ্টনীর দেয়ালে লাগানো হয়েছে টাইলসের উপরে লেখা বাংলা অর্থসহ বিভিন্ন দোয়া ও পবিত্র কুরআনের আয়াত। অন্তিম শান্তি নিবাসের সামনের গেটটিতেও লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের দৃষ্টিনন্দন টাইলস। গেটটি দিয়ে ভিতরে ঢুকে বামপাশে চোখে পড়বে কবরস্থানের স্বপ্নদ্রষ্টা, উদ্যোক্তা, অনুপ্রেরণাদাতা, অনুদানকারী ও কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা। ডান দিকে লোহার গ্রিলের মাঝে থাই গ্লাস দিয়ে ঘেরা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ‘অন্তিম শান্তি নিবাস’ ভবনটি। ভবনের ডান পাশে রয়েছে এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় সূফী সাহেব ও তার ছেলে হাফেজ সাহেবের কবর। পিছনের দিকে বেশ খানিকটা আবাদি জমি। বাম পাশে রয়েছে মুসল্লিদের ওযু করার ব্যবস্থা। ভবনের সামনে ও বাম পাশ দিয়ে চলে গেছে হেরিং বন্ডের রাস্তা।
এই ভবনটি এলাকাবাসীর কাঙ্খিত স্বপ্নের সোনালী সৌধ, অমর কীর্তি, সৃষ্টিতে আনন্দ, কর্মে অমরত্ব, চির অম্লান সমাধি, অন্তিম শান্তি নিবাস ও অনন্য ইতিহাস।
ইতোপূর্বে এ কবরস্থানটি দেখভালের কাজে নিয়োজিত ছিলেন এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুফী সাহেব নামের এক ব্যক্তি। তিনি মারা যাওয়ার পর তার পুত্র হাফেজ সাহেব এ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনিও মারা যাওয়ার পর সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, বর্তমান কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আলোচনা করে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। যার বর্তমান সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন।
বর্তমান কবরস্থান কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন জানান, গাড়াবাড়িয়া দারুল আখেরাত কবরস্থানে প্রায় ১০ বিঘা জমি রয়েছে। পাকিস্তান আমলের পর থেকেই এখানে এলাকার মানুষের দাফন কাজ সম্পন্ন হয়ে আসছে। বর্তমান কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দাদা নুরুল ইসলাম এ কবরস্থান প্রতিষ্ঠা করেন।
সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন আরো জানান, গত কয়েক বছর আগে এলাকার জনৈক এক ব্যক্তির মরদেহ বিদেশ থেকে আসার পর দূর দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনকে এক নজর দেখানোর জন্য মরদেহটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রাখা হয়েছিল। মাত্র একদিন পরেই ভুক্তভোগী পরিবারকে গুনতে হয়েছিল মোটা অংকের টাকা। তারপর এলাকাবাসী আলাপ আলোচনা করে কবরস্থানের দ্বিতীয় গেটের ডানপাশে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত একতলা একটি ভবন নির্মাণ করেন। এতে কেবলমাত্র এলাকার লক্ষিত জনগোষ্ঠী নয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে জেলার যে কোন গ্রামের লোকজন মরদেহ সংরক্ষণের সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা জানান, বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে সব কিছুতেই আধুনিকায়ন হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমার পিতা কাথুলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আমিনুল ইসলামের পরিকল্পনায় গাড়াবাড়িয়া কবরস্থান এলাকায় শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ‘শান্তি নিবাস’ নামে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। সেই সাথে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার বাড়তি বোঝা থেকে রক্ষা পাচ্ছে এলাকাবাসী।
তিনি কবরস্থান কমিটিকে সামর্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতিটি ইউনিয়নে কমপক্ষে একটি করে ” অন্তিম শান্তি নিবাস’ নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে কবরস্থান কমিটির আর্থিক সঙ্গতির পর্যাপ্ততা ও সম্ভব হলে সরকারি সহযোগিতার উপর বিবেচনা করে অন্তিম শান্তি নিবাসের বাস্তবায়ন করা যেতে পরে বলেও জানান কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের ওই চেয়ারম্যান।