মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হলুদ পাঞ্জাবি পরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করায় ব্যাপক সমালোচনায় পড়েছেন লেখক ও পাঠক ফোরাম (বৃহত্তর কুষ্টিয়া) এর সদস্যরা। রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১মিনিটে (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে উপজেলা প্রশাসনের সাথে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে উপস্থিত হন তারা। তবে এ সময় হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে একটি গোষ্ঠীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবসে হলুদ পাঞ্জাবি পরে একটি আলাদা গোষ্ঠীর আত্ম প্রকাশে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। দিবসটিতে শহীদদের বেদনার সাথে স্মরণ না করে বসন্ত বরণ পোশাকে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াটা কি আবশ্যক ? এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকার সচেতন নাগরিকদের মনে। এ নিয়ে এলাকায় চলছে তুমুল সমালোচনার ঝড়।
লেখক ও পাঠক ফোরাম (বৃহত্তর কুষ্টিয়া) অঞ্চলের সদস্য পথিকের পাঠশালার পরিচালক রফিকুল ইসলাম পথিক জানান, বিষয়টা সিরাজুল ইসলাম স্যার জানেন। তিনি এই অনুষ্ঠানের মাথা। এ বিষয়ে তিনিই ভাল বলতে পারবেন।
লেখক ও পাঠক ফোরাম (বৃহত্তর কুষ্টিয়া) অঞ্চলের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, ইতোপূর্বে লেখক ও পাঠক ফোরাম থেকে একটি অনুষ্ঠানের জন্য কমন পাঞ্জাবি দেওয়া হয়েছিল। সেই পোশাকটাই হয়তো কেউ কেউ পরে এসেছে।
লেখক ও বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক রফিকুর রশিদ রিজভী জানান, সন্দেহ নেই যে আমরা বসন্তকালেই আছি। যেকোনো দিন ওই বসন্তের পোশাক পরা যায়। তবে আজকের দিনটা বাঙালির কাছে ভাষা আন্দোলনের দিন। এ দিনে আমরা স্মরণ করব ভাষা শহীদদের। সেটার জন্য আজকের দিনে এই হলুদ পোশাক কি আবশ্যক? এর দিনটিতে বসন্তের পোশাক পরা অপেক্ষা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই জরুরী কর্তব্য।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোছাঃ রনী খাতুন জানান, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই। আমার মনে হয়নি যে বিষয়টি কমেন্ট করার যোগ্য। তারা যেভাবে মনে করেছে সেভাবেই তারা পালন করেছে। এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। যারা এই হলুদ পোশাক পরে এসে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে তাদের কাছ থেকে মন্তব্য নিলেই ভাল হয়।