শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

গাংনীর রাজা ক্লিনিকে অপারেশনের পর পেটে কাঁচি রেখেই সেলাই, ধরা পড়লো ২০ বছর পর

তোফায়েল হোসেন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২২
  • ২৫৮২ বার পঠিত

মেহেরপুরের গাংনীর রাজা ক্লিনিকে বাচেনা খাতুন নামের এক নারীকে অপারেশনের পর পেটের মধ্যেই প্রায় পাঁচ ইঞ্চি লম্বা একটি সিজারিয়ান ইন্সট্রুমেন্ট “কাঁচি” রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার প্রায় ২০ বছর পর রাজশাহীতে গিয়ে ধরা পড়লো বিষয়টি। আবারও অপারেশন করে সেই কাঁচিটি বের করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিত্তথলিতে স্টোন জনিত সমস্যায় ভর্তি হওয়া পর ওই নারীকে গত ২০০২ সালের ২৫ মার্চ গাংনীর রাজা ক্লিনিকে অপারেশন কর হয়।

ভুক্তভোগী নারীর নাম বাচেনা খাতুন (৫০)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঢিৎলা ইউনিয়নের নওদাহাপানিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের  স্ত্রী।

অসুস্থ বাচেনা খাতুন জানান, অপারেশনের পাঁচ থেকে ছয় মাস পর পেটে ব্যথা শুরু হলে তিনি রাজা ক্লিনিক এর স্বত্বাধিকারী চিকিৎসক পারভিয়াস হোসেন রাজার শরণাপন্ন হন। ডাঃ পারভিয়াস হোসেন রাজার পরামর্শে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। কিন্তু কোনো পরিবর্তন না দেখে বাচেনা খাতুন কখনো চুয়াডাঙ্গা, কখনো আলমডাঙ্গা কখনো গ্রাম্য ডাক্তার এমনকি যখন যে যা বলেছে সেখানেই ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন একটু ভালো থাকার আশায়।  কয়েকদিন আগে পেটে অসহনীয় ব্যথা শুরু হলে গত  কাল (০২ জনুয়ারী) রাজশাহীর দি ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে ওই ক্লিনিকে এক্স-রে করে চিকিৎসক দেখতে পান বাচেনা খাতুনের পেটের মধ্যে একটি কাঁচি রয়েছে। পরে চিকিৎসক রোগীর পোশাক পরিবর্তনসহ একাধিকবার এক্সরে করে পেটের মধ্যে কাঁচি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেই সাথে তাকে দ্রুত পুনরায় অপারেশন করে কাঁচি বের করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধী বাচেনা খাতুনের স্বামী আব্দুল হামিদ জানান, তার শেষ সম্বল ১০ কাঠা জমি বিক্রি, দুইটা গরু বিক্রি এবং তার বলতে যা ছিল সবটুকুই বিলিয়ে দিয়েছে স্ত্রীর চিকিৎসার পিছনে। বর্তমানে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার পর্যন্ত জোটে না। তিনি কিভাবে পুনরায় অপারেশন করাবেন।


এটা ভেবে হতাশ হয়ে স্ত্রী বাচেনা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাচেনা খাতুন তার পুনরায় অপারেশনসহ সমুদয় ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন রাজা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ও চিকিৎসক পারভিয়াস হোসেন রাজা এর নিকট থেকে। অন্যথায় তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রাজা ক্লিনিক এর স্বত্বাধিকারী ও চিকিৎসক পারভিয়াস হোসেন রাজা জানান, মানুষ ভুলের উর্ধে নয়। মানুষের ভুল হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দোষ এড়ানো যায়না। যদিও ডাঃ মিজানুর রহমান বাচেনা খাতুনের অপারেশনটি করেছিলেন। তিনি ভুক্তভোগী বাচেনা খাতুন ও তার পরিবারের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টির সুরাহা করতে চান।

মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডাঃ জওয়াহেরুল আনাম সিদ্দিকী জানান, এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমি শুনি নাই। তবে এটা ঘটে থাকলে খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার আইনের আশ্রয় নিলে বিষয়টি আইনগতভাবে সুরাহা হবে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 gangnisongbad.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
ThemesBazar-Jowfhowo