শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

গাংনী এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পরিচয় দানকারী শহিদুল ইসলাম একজন ভুয়া সরকারী কর্মকর্তা বললেন ঠিকাদার মিঠু

তোফায়েল হোসেন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৭৮২ বার পঠিত

মেহেরপুরের গাংনীতে এলজিইডি অফিসের শহিদুল ইসলাম নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা (উপ-সহকারী প্রকৌশলী) পরিচয় দিয়ে মারধরের অভিযোগ তুলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিঠু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন মিঠুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন বলে জানা গেছে । রোববার (১১ ডিসেম্বর) মারধরের অভিযোগ তুলে মামলাটি করেন তিনি।

এদিকে এই মামলার বাদি শহিদুল ইসলামকে একজন ভুয়া সরকারী কর্মকর্তা বলে দাবি করেছেন মামলার বিবাদি ঠিকাদার মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিঠু।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে যিনি মামলা করেছেন সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তা সম্পূর্ণ ভুয়া এমনকি শহিদুল ইসলাম তার প্রকল্পের কেউ নয়। মামলার বাদি যে একজন ভুয়া ও সরকারী কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে সাজানো ও মিথ্যা মামলা করেছে এর যথেষ্ঠ প্রমাণ তার কাছে আছে বলে সাংবাদিকদের বলেন ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন মিঠু।

ঘটনার দিন বিকেলে এলজিইডি প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ এর বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহনের উদ্দেশ্যে অযথা হয়রানির অভিযোগ তুলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন মিঠু সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এলজিইডি কর্তৃক নিবন্ধিত একজন ঠিকাদার তিনি। যার আইডি নাম্বার ০৮।২০২০/২১।

মটমুড়া ভুমি অফিসের বিল্ডিং নির্মাণের কাজটি লটারির মাধ্যমে পেয়ে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সিডিউল মোতাবেক বিল্ডিং নির্মাণ করেন তিনি।

বিল্ডিং নির্মাণের কাজ চলাকালীন সময়ে গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল আহমেদ ও তার সহকারিরা একাধিকবার কাজের গুনগত মান যাচাই করেন। ইতোমধ্যে গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাপ আলী শেখ পরিবর্তন হলে ফয়সাল আহমেদ তার স্থলাভিষিক্ত হন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ঠিকাদার মিঠু।

১০/১০/২০২১ ইং তারিখে বিল্ডিং এর নির্মাণ কাজ শুরু করে সিডিউল মোতাবেক কার্যক্রম শেষ হলে বর্তমানে তা হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ যোগদানের পর তাকে ৩%, সহকারী আলাউদ্দিনকে ২%, ও সার্ভেয়ার আক্তরুজ্জামানকে ১% টাকা দিতে হয়েছে। প্রায় ৮ মাস আগে বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হলেও তা বুঝে না নিয়ে দফায় দফায় ভুল ধরে হেনস্থা এবং টাকা আদায়ের অভিযোগ তোলেন ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন মিঠু।

অন্যদিকে অনেকগুলো টাকা আটকে থাকায় ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন মিঠু বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর নিকটে ঋণী হয়ে রয়েছেন। ব্যবসায়ীরাও টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিতে শুরু করেছে তাকে।

রোববার (১১ ডিসেম্বর) সকালে সহকারী শহিদুল ইসলামকে নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মটমুড়া ইউনিয়নের বাওট গ্রামে নবনির্মিত ভূমি অফিসের ভবন পরিদর্শনে যান। এ সময় ঠিকাদার মিঠু উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমদকে বিল্ডিং বুঝে নিয়ে বিল পরিশোধের অনুরোধ জানান।

উপজেলা প্রকৌশলী এ বিষয়ে শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি ১০ হাজার টাকা উপজেলা প্রকৌশলীকে দেয়ার পরামর্শ দেন।

এই কথা শুনে ঠিকাদার মিঠু জানান টাকা অনেক দিয়েছি আর দিব না। একথা বলে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে প্রয়োজনে তিনি ডিসি ও ইউএনওকে বিষয়টি জানাবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

তিনি আরো জানান, শহিদুল ইসলাম যেহেতু ভূমি অফিস নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট না তাহলে তার সাথে আমি কেন কথা বলবো? একথা বলার সাথে সাথেই এলজিইডি প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ রাগান্বিত হয়ে বিল পরিশোধ করা হবে না বলে জানান। এই ঘটনার পর উপজেলা প্রকৌশলী মিঠুর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলেন ঠিকাদার মিঠু।

এ থেকে পরিত্রাণ পেতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানিয়েছেন ঠিকাদার মিঠু।

নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী দাবি করা শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি প্রকৃতপক্ষে এলজিইডি অফিসের শিক্ষা প্রকল্প গভমেন্ট প্রাইমারি স্কুল (জিপিএস) জুনিয়র সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার পদে (অস্থায়ী ভিত্তিতে) চাকরিরত রয়েছেন।

মামলার এজাহারে নিজেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরকারী কর্মকর্তা দাবি করেছেন কেন ? তাছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট না হয়েও ভূমি অফিস নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে কেন গিয়েছিলেন ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন “আমি এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী স্যারকে কমপক্ষে পাঁচবার বলেছি আমি ওই দিকে যাব না। তারপরেও স্যার আমাকে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)
ফয়সাল আহমেদ এর কাছে শহিদুল ইসলাম সরকারী কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি সরকারি প্রকল্পে কাজ করেন তাই তাকে সরকারী কর্মকর্তা বলাই যায়। তবে শহিদুল ইসলাম নিজেকে কেন সরকারী কর্মকর্তা দাবি করছেন না এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ সাংবাদিকদের অন্য কারোর কথায় কান না দিয়ে অফিসে স্বাক্ষাৎ করার অনুরোধ জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 gangnisongbad.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
ThemesBazar-Jowfhowo