শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

তীব্র গরমে চাহিদা বেড়েছে তাল শাঁসের, দামে দ্বিগুণ

তোফায়েল হোসেন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০২৩
  • ২৯৮ বার পঠিত

গেল বছরের তুলনায় দামে দ্বিগুণ হলেও মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের মোড়ে মোড়ে মিলতে শুরু করেছে তালের শাঁস। গরমে কাঁচা তালের শাঁস মেহেরপুর এলাকায় খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার হিসেবে পরিচিত। তালের শাঁস খেতে অনেকটা নারকেলের মতো। কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।

গত কয়েকদিন ধরে চলতি মৌসুমে লিচু বাজারে রাজত্ব করলেও সঙ্গী হয়েছে তালের শাঁস। তালের শাঁসের চাহিদা দিনে দিনে অনেক বাড়ছে। এবছর প্রতি হালি তালের শাঁস ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিষ্টি স্বাদের মোহনীয় গন্ধ ও পুষ্টিগুনে ভরপুর এই তালের শাঁসে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ। যা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। তালের শাঁস খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তালের শাঁস প্রাকৃতিকভাবে দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন। ত্বককে সুন্দর, উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় করে তুলতে সহায়তা করে। দৃষ্টিশক্তিকে প্রখর করে। গরমে তালের শাঁস শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে। খাবারের রুচি বাড়িয়ে দিতেও সহায়তা করে। কচি তালের শাঁস লিভারের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। তাল শাঁসে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়তা করে। এমনটি জানিয়েছেন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মারুফ হোসেন।

প্রতিটি তাল ফলে দুই থেকে তিনটি করে তালের শাঁস রয়েছে। পরিপক্ক হওয়ার আগেই গাছ থেকে তাল ফল সংগ্রহ করে তালের শাঁস বিক্রি করে থাকে ব্যবসায়ীরা। দক্ষতার সাথে তাল কেটে শাঁস বের করাটাও বেশ অভিজ্ঞতার বিষয়। বাজার থেকে তালের শাঁস না কিনলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যবসায়ীর কর্মশৈলীর নিপুনতা দেখতে বেশ পছন্দ করেন অনেকে। ফলে অনেক সময় তাল শাঁস ব্যবসায়ীকে ঘিরে অনেক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের তাল শাঁস ব্যবসায়ী সেন্টু মিয়া জানান, সারা বছর অন্যান্য ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলেও গরমের মৌসুমে প্রায় ১০ বছর ধরে তাল শাঁসের ব্যবসা করে আসছেন। গেল বছরে একটি গাছের তাল ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় কিনে ১০-১২ টাকা হালি তালের শাঁস বিক্রি করেছেন। অথচ এ বছর সেই তাল ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকায় খরিদ করতে হচ্ছে। ফলে এবার ২০ টাকা হালি তাল শাঁস বিক্রি করতে হচ্ছে। চলতি মৌসুমে তিনি প্রতিদিন প্রায় ৪শ’ থেকে ৫শ’টি তাল ফলের শাঁস বিক্রি করছেন। একই কথা জানিয়েছেন মেহেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার তাল শাঁস বিক্রেতা হামিদুল ইসলাম।

তালশাস কিনতে আসা গাংনী পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মজিদ জানান, তাল শাঁস খেতে খুব ভালো লাগে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ এটি সব ধরনের মানুষের পছন্দের খাবার। কচি তাল শাঁস খেতে মুখে দাঁতের প্রয়োজন হয় না। ফলে শিশু ও বৃদ্ধ বয়সের মানুষের কাছে এটি খুবই পছন্দের খাবার। বছরে শুধু গরমের মৌসুমে একবার তাল শাঁসের দেখা মেলে তাই শখ করে তিনি বাড়ির সকলের জন্য এ তাল শাঁস কিনেছেন।

তাল শাঁস কিনতে আসা গাংনী পৌর এলাকার চৌগাছা গ্রামের আল্পনা খাতুন জানান, কয়েকদিন ধরে বাজারের এদিক সেদিক খুঁজে তাল শাঁসের সন্ধান মেলেনি। আজকে পেয়েছি। তবে গেল বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ দামে তালের শাঁস কিনতে হচ্ছে। তারপরও ছোট ছেলে শিশুর আবদার পূরণ করতে পেরে আমি খুবই খুশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 gangnisongbad.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
ThemesBazar-Jowfhowo