ঢাকা থেকে প্রকাশিত “দৈনিক বণিক বার্তা” পত্রিকার প্রয়াত সহকারী বিজ্ঞাপণ ম্যানেজার ও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পূর্বমালসাদহ গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম কাওছার হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আবু সাদাত মোঃ ফয়সাল ওরফে প্যাডিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ টিম। সোমবার দিবাগত রাতে গাংনী থানা পুলিশের একটিদল শেরে বাংলানগর র্যাব-২ ক্যাম্পের সহায়তায় তুরাগ থানাধীন বাউনিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে প্যাডিকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আবু সাদাত মোঃ ফয়সাল ওরফে প্যাডি গাংনী পৌর এলাকার দুই নম্বর ওয়ার্ড শিশিরপাড়া গ্রামের মাহাতাব উদ্দীনের ছেলে।
জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম কাওসার ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকাস্থ ভাড়া বাসা থেকে পত্রিকা অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন। তিন দিন পর ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার নামাপাড়া বোর্ডঘাট এলাকার একটি বাসায় স্যুটকেস ভর্তি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় প্যাডি ও তার সহযোগী রাইহান, নাজমুল হাসান রাকিব ও ফয়সাল ফাহিম নামের ৪ জনকে আসামী করে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন জাহাঙ্গীর হোসেন কাওসারের স্ত্রী রোজিনা খাতুন। যার মামলা নং- ১৬, তাং ১৮-৯-১৫ ইং।
টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মামলার পর পুলিশ অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করেন। পরে ঢাকা মেট্রোপলিন স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ২০১৮ সালে প্রধান আসামী আবু সাদাত মোঃ ফয়সাল ওরফে প্যাডিকে মৃত্যুদন্ড ও অন্যান্য আসামীদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই প্যাডি পলাতক ছিলেন।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) মনোজিৎ কুমার নন্দী জানান, রায় ঘোষণার সময় থেকে প্যাডি পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গাংনী থানা পুলিশের এসআই জহির রায়হান ও শেরে বাংলানগর র্যাব-২ ক্যাম্পের সহায়তায় তুরাগ থানাধীন বাউনিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে ঢাকার বাউনিয়া এলাকায় রুবেল নামে পরিচিত হয়ে বসবাস করছিল।
প্যাডির নামে খাগড়াছড়ি জেলায় একটি হত্যা মামলা ও অস্ত্র গুলি এবং বিষ্ফোরদ্রব্য আইনে মামলাসহ গাংনী থানায় আরো ৬ টি মামলায় গ্রেফতারী পরওয়ানা রয়েছে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।