১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া কালজয়ী ভাষণের স্মরণে “ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবস” পালিত হয়েছে মেহেরপুরে। মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান। একই সাথে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মেহেরপুর পাবলিক লাইব্রেরী ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষেও পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
পরে পর্যায়ক্রমে পুলিশ বিভাগের পক্ষে পুলিশ সুপার রাফিউল আলম, মেহেরপুর জেলা পরিষদ ও মেহেরপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস সালাম, সরকারি কলেজের পক্ষে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, সরকারি মহিলা কলেজের পক্ষে অধ্যক্ষ প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, মেহেরপুর পৌরসভার পক্ষে পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, মেহেরপুর জেলা আনসার ও ভিডিপির পক্ষে জেলা কমান্ড্যান্ট সাহাদাত হোসেন, উপজেলা পরিষদের পক্ষে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম পুষ্পমাল্য অর্পণ করেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মৃধা মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লিংকন বিশ্বাস, লিউজা-উল জান্নাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম,মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম,এ খালেক, পি পি পল্লব ভট্টাচার্য,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুল্লাহ,বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম,বীর মুক্তিযোদ্ধা, ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এবং একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশায় বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত, বাঙালির অধিকার আদায়ের সব গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা নিষ্ফল হবার পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে বাংলার মুক্তিকামী জনগণকে স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অবিসংবাদিত নেতৃত্ব এবং ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, সমগ্র বাঙালি জাতিকে যেভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে একাত্ম করেছিল, বিশ্ব ইতিহাসে তা একান্তই বিরল। আর সেজন্যই ইউনেস্কো ভাষণটিকে মানবজাতির একটি প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে’ অন্তর্ভুক্ত করেছে।