শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

জমিতেই নষ্ট হচ্ছে টমেটো, কৃষকের মাথায় হাত!

তোফায়েল হোসেন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫
  • ৫৯ বার পঠিত

গাছে থেকে পাকা টমেটো জমিতেই পড়ে নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু সেই টমেটো তুলে বাজারজাতকরণের কোন আগ্রহ নেই কৃষকের। ফলে খেতের জমিতেই নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ টমেটো। শুধু টমেটোই নয়, দাম না থাকায় ইতোপূর্বে ফুলকপি ও বাঁধাকপি খেতের মধ্যেই কেটে বিনষ্ট করেছে কৃষকরা। এমন চিত্র দেখা গেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, একদিকে ক্ষতির পাল্লা ভারী না করতে জমি থেকে টমেটো যেমন তোলা হচ্ছে না, অন্যদিকে প্রচন্ড গরমের কারণে জমিতে টমেটো রাখাও যাচ্ছে না। ফলে পচে গলে নষ্ট হচ্ছে অতিকষ্টের বিপুল পরিমাণ টমেটো। জমি পরিষ্কার করতে মালিকের অনুরোধে অনেকেই মাঠ থেকে টমেটো তুলে নিয়ে যাচ্ছে গরুর খাদ্য হিসেবে।

এক মণ টমেটো বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তার চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে বাজারজাত করতে। এতে বড় অংকের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

অধিকাংশ কৃষক সার, কীটনাশক ও সেচের টাকা বাকি রেখে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করে থাকে। এ বছর বাজারে টমেটোর দামের পতন ঘটায় কৃষকরা পড়েছে ভীষণ দূঃচিন্তায়, হতাশার কাটছে প্রতিটি মুহূর্ত।

গাংনী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য মতে, এবছর উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হয়েছে। বাজারদর এতটাই কম যে উৎপাদন খরচও ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

কাজিপুর গ্রামের কৃষক নাড়ু আলীর ছেলে কালু দুই বিঘা জমিতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে টমেটো চাষ করেছিলেন। শেষ সময়ে সেচের জন্য আরও ২০ হাজার টাকা খরচ করেন। ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম না থাকায় তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পেরেছেন। পাইকারি ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, যার ফলে খেতেই পচে গলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কষ্টের টমেটো। একই কথা জানিয়েছেন কাজিপুর আলম বাজার এলাকার আয়নাল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম, কৃষক কেটু ও সোহরাব হোসেন।

একই পরিস্থিতির মুখোমুখি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আরও অনেক কৃষক। উপজেলার বামন্দি গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান,  এক একর জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেও মূলধন ফেরত পাচ্ছেন না তিনি।

সাহারবাটি গ্রামের জাব্বারুল ইসলাম জানান, দুই বিঘা জমির ফসল তুলতেই পারছেন না। এক ক্যারেট (২৫ কেজি) টমেটো খেত থেকে তুলে বাজারে নিতে ৪০ টাকা খরচ হয়, অথচ বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৫০ টাকায়। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে অনেক কৃষক টমেটো তোলাই বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি টমেটোর দাম ৩-৬ টাকা, খুচরায় ৮-১০ টাকা হলেও তা আদৌও লাভজনক নয়।

তবে সবজি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দীন এ পরিস্থিতির জন্য বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সংরক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন। টমেটো চাষ থেকে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন তিনি। যদি যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে কৃষক টমেটো চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে, যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি। একই কথা জানিয়েছেন সবজি ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও আলম হোসেন।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন জানান, এ বছর উৎপাদন বেশি হয়েছে ফলে টমেটোর দাম কমে গেছে। তাছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা কম এবং বাইরের ক্রেতার অভাবে টমেটোর বাজারদর তলানিতে নেমেছে। তবে রমজান মাসের পর টমেটোর চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে। চাহিদা বাড়লে দামও বৃদ্ধি পাবে। টমেটো চাষে যে সকল কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে  সরকারি প্রণোদনা আসলে তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়ার কথাও জানালেন কৃষি অফিসের ওই কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 gangnisongbad.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
ThemesBazar-Jowfhowo