মেহেরপুরের গাংনীতে বাসস্ট্যান্ড ও বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে মোট পাঁচটি শক্তিশালী টাইম বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া তিনটার দিকে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আকস্মিক বিকট শব্দে পুরো গাংনীজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গাংনী বাসস্ট্যান্ডের হারুন বস্ত্রালয় ও হাসানের চায়ের দোকানের মধ্যবর্তী স্থানে দেবদারু গাছের নিচে বিস্ফোরণটি ঘটে। সে সময় গাংনী বাজারের বিশিষ্ট হোটেল ব্যবসায়ী মরহুম রফিকুল ইসলামের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার জন্য সেখানে বহু স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা জমায়েত হয়েছিলেন। জনসমাগমের মধ্যেই দেবদারু গাছ থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে পরপর তিনটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে উপস্থিত জনতা প্রাণভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে।
ঘটনাস্থল থেকে গাংনী বাজারের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন শাওন জানান, জনসমাগমের মধ্যে আচমকা বিস্ফোরণটি ঘটলেও ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এলাকা জুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণ শেষে গাছের নিচে সার্কিট ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি টাইম বোমাসদৃশ বস্তুর ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তিনি এ ঘটনার দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
একই সময়ে বাঁশবাড়িয়া আনসার ভিডিপি ক্লাবের সামনে আরও দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাঁশবাড়িয়া ফুটবল মাঠে সমবেত হচ্ছিলেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান বানচাল করতেই কোনো কুচক্রী মহল এই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত জব্দ করেছে। গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সার্কিটসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, তা অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।