গাংনীতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালে প্রকাশ্যে গাইড দেখে নকলের ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর, মোবাইল ও মাইক্রোফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে কলেজের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন- নাগরিক টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহম্মেদ এবং দৈনিক খবরের কাগজ ও সময়ের কণ্ঠস্বরের জেলা প্রতিনিধি এস এম তারেক। তারা গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এজাহার ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাউবি’র অধীনে ডিগ্রি ১ম বর্ষের ইংরেজি পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও পরীক্ষার্থীরা খোলাখুলি গাইড দেখে উত্তর লিখছেন এমন খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পেশাগত দায়িত্বে সেখানে যান ওই দুই সাংবাদিক। পরীক্ষা কক্ষে মোবাইল ও গাইড দেখে উত্তর লেখার দৃশ্য ধারণ করার সময় সাংবাদিক পরিচয়পত্র ঝুলানো থাকা সত্ত্বেও কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুজ্জামান বাবর আলী ও সহযোগী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বিপ্লব তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুই শিক্ষক সাংবাদিকদের কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে আসেন। পরে তাদের হুকুমে আরও ৮-১০ জন লোক সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর ও কিল-ঘুষি-লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ওয়ানপ্লাস ও রেডমি ব্যান্ডের দুটি স্মার্টফোন এবং নাগরিক টেলিভিশনের অফিশিয়াল মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেয়। মারধরের পর তাদের অন্য একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ভুক্তভোগীরা কৌশলে বের হয়ে আসেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাব্বি আহম্মেদ বাদী হয়ে দুই শিক্ষকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে গাংনী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণের কাজ চলছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।