মেহেরপুরের গাংনীতে শ্রাবণের টানা তিন দিনের অঝোর ও থেমে থেমে বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তীব্র গরমের পর এ বৃষ্টি প্রকৃতিতে কিছুটা শীতলতা আনলেও, নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা এবং টানা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।
টানা বর্ষণের ফলে গাংনী উপজেলা শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে ছোটখাটো খালের রূপ নিয়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে জীবন ও ঝুঁকির মুখোমুখি হয়ে নামছে যানবাহন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা শেষ না হওয়ায় পানি নামতে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি সময় লাগছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে মাথায় পলিথিন বেঁধে রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে। যানবাহন চালকরাও গাড়ি সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় অফিসে যাওয়া চাকুরিজীবী ও জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ রিকশা ভাড়া।
”তিন দিন ধরে ঠিকমতো প্যাডেল ঘুরাইতে পারি না। বৃষ্টি থামলে বের হই, আবার হুট করে ঝুম বৃষ্টি নামলে রাস্তার পাশে বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না। আয়-রোজগার একবারে নেই বললেই চলে, তার ওপর রয়েছে এনজিওর কিস্তি ও ওষুধ কেনার চাপ।” জানিয়েছেন গাংনী পৌর এলাকার শাকিব ভ্যান চালক টগর আলী।
সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন দিনমজুর, রংমিস্ত্রি, রিকশাচালক ও সড়কপথের হকাররা। প্রতিদিনের উপার্জনে যাদের পরিবার চলে, এই অবিরাম বৃষ্টিতে তাদের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে এসেছে।
রংমিস্ত্রি মফিজুল ইসলাম ও রনি জানান, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে তাদের দলের প্রায় ১২ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে বসে আছেন। কাজ না থাকলেও সংসারের নিত্যদিনের খরচ থামেনি। আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে পরিবার চালাতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে।
এদিকে কাঁচাবাজারগুলোতে বৃষ্টির কারণে ক্রেতাদের আনাগোনা অনেকটাই কম। পচনশীল সবজি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় খুচরা বিক্রেতারা অনেক পণ্যই কিছুটা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী আক্কাস আলী ও মন্টু মিয়া।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণেই দেশের এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চল ও নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টানা বৃষ্টি এখন স্থানীয়দের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।