মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চরম দুর্নীতি, রোগীদের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগ এবং ব্যাপক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। এ সব অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ পালন করেছে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকরা একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন: দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের পরিচালক ইব্রাহিম হিমু, সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আব্দুল আলিম, বাংলাদেশ ব্লাড ডোনেট সোসাইটির প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন।
হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসাসেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রোগী ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভরপুর অনিয়মের কড়া সমালোচনা করেন বক্তারা। সাধারণ মানুষ যেন সঠিক সেবাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপর দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে আসা আমঝুপি ইউনিয়নের ময়ামারি গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান:
“চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করানোর জন্য হাসপাতালে আসি। কিন্তু ভেতরের কর্মচারীরা জানান এখানে এক্স-রে করা সম্ভব নয়, বাইরে থেকে করাতে হবে।”
হাসপাতালের ভেতরে সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠনোর এই সিন্ডিকেট নিয়ে সাধারণ রোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে সচেতন নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধি দল বিষয়গুলো জানাতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। তবে সে সময় কার্যালয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে প্রতিনিধিরা চিকিৎসক ডা. ফজলুর রহমানের মাধ্যমে ফোনে তত্ত্বাবধায়কের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
একটি সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন আচরণকে “অত্যন্ত দুঃখজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে অভিহিত করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজের নেতারা।