আসন্ন মেহেরপুর জেলা যুবদলের কমিটিকে ঘিরে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত নেতা জাহিদুল ইসলাম শামীম। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, ছাত্রদল থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সাল থেকে তিনি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছেন। ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তাঁকে জেলা যুবদলের সভাপতি পদের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এনেছে।
এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম শামীম বলেন, “আমি সব সময় দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও দলের সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী মেহেরপুর জেলা যুবদলকে আরও সুসংগঠিত করতে কাজ করে যেতে চাই।”
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা জাহিদুল ইসলাম শামীমের বাবা মরহুম ইসলাম আলী মাস্টার ছিলেন মেহেরপুরের একজন সুপরিচিত রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বিভিন্ন সময়ে জাগদল, বিএনপি এবং জেলার নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মেহেরপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিএনপি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিআরডিবি, জেলা স্টেডিয়াম, রেড ক্রিসেন্ট, শিক্ষক ফেডারেশন, সাংবাদিক সমিতিসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করে জেলার উন্নয়ন ও সংগঠন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
এছাড়া শামীমের ছোট চাচা নাসির উদ্দিন ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত মেহেরপুর সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মেহেরপুর সদর থানা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
অপর চাচা আহসান হাবীব ১৯৮৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মেহেরপুর জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদে মো. জাহিদুল ইসলাম শামীমের নাম নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।