মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে সাপের কামড়ে জুঁই (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সাহারবাটি দক্ষিণপাড়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত জুঁই সাহারবাটি দক্ষিণপাড়ার জামাল উদ্দিনের মেয়ে এবং স্থানীয় সাহার বাকি ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
নিহতের চাচা ও সাহারবাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্বাস আলী জানান, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় জুঁইকে একটি সাপে কামড় দিলে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘর থেকে একটি সাপকে বেরিয়ে যেতে দেখে সে চিৎকার করে ওঠে। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাহিদ হাসান জুঁইকে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে, তার শরীরে কোনো বিষক্রিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হতে শুরু করে। এমতাবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত হাড়িয়াদহ গ্রামের এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। তবে ওঝা ঝাড়ফুঁক না করে কোনো চিকিৎসা না দিয়েই তাকে দ্রুত মেহেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
ওঝার কাছ থেকে ফিরিয়ে জুঁইকে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মুখে ফেনা দেখতে পান। সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ায় কোনো কালক্ষেপণ না করেই চিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে ‘অ্যান্টিভেনম’ প্রয়োগ করেন। তবে ততক্ষণে বিষ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই জুঁই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
স্কুলছাত্রী জুঁইয়ের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাপে কাটার পর ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট না করে শুরুতেই সদর হাসপাতালে নিলে হয়তো মেয়েটিকে বাঁচানো যেত বলে স্থানীয়দের অনেকেই আফসোস প্রকাশ করেছেন।