মেহেরপুরের গাংনীতে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল হাশেম (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চালকসহ আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে গাংনী পৌরসভার ঝিনেরপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল হাশেম মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের মৃত দৌলত হোসেনের ছেলে। তিনি গাংনী পৌর এলাকার ঝিনিরপুল পাড়ায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে বসবাস করতেন।
আহতরা হলেন- পাখিভ্যান চালক ও গাংনী পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ড শিশিরপাড়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে আঃ রহমান (৪০) এবং মোটরসাইকেল চালক তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গরিবপুর গ্রামের রন্জিত হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২০)।
নিহতের ভাগ্নে বাবু জানান, তার মামা আবুল হাশেম প্যারালাইসিসের রোগী ছিলেন। রাতে তিনি ওষুধ কেনার জন্য গাংনী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। ঝিনেরপুল এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ এক কিশোর পাকা সড়ক পার হতে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে পাখিভ্যানচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডার ক্রস করে ডান দিকের রাস্তায় ঢুকে পড়েন। ঠিক একই সময়ে গাংনীর দিক থেকে মেহেরপুরের অভিমুখে যাওয়া একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাখিভ্যানটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল ও ভ্যানটি পাকা সড়কে ছিটকে পড়ে তিনজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাহিদ হাসান তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে আবুল হাশেমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে কুষ্টিয়া নিয়ে যাওয়ার পথে খলিশাকুন্ডি নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়।
গাংনী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আল মামুন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।