প্রায় এক যুগ পর আবারও স্বপদে বহাল হলেন মেহেরপুরের কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুন্নত আলী।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তিনি পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান সভাপতি ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন তাকে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বোর্ডের নির্দেশনার কপি গ্রহণ করে অধ্যক্ষ সুন্নত আলীকে তার নিজ পদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। প্রায় ১২ বছর পর দায়িত্ব গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে সুন্নত আলী বলেন, “কে ফিরিয়ে দেবে আমার বারোটি বছর?”
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল কুতুবপুর স্কুল একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার সময় কয়েকজন অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তৎকালীন স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা অধ্যক্ষ সুন্নত আলীকে মারধর করে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ অধ্যক্ষ সুন্নত আলীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ড তাকে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়।
এরপর সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন (নং-৫৩৬/১৮), যা বর্তমানে হাইকোর্টে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।
পরবর্তীতে সভাপতি পরিবর্তন হয়ে কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার সময় সহকারী শিক্ষক খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে কুষ্টিয়া স্পেশাল কোর্টে অর্থ আত্মসাতের আরেকটি মামলা দায়ের করেন (নং-০৩/১৯)।
এদিকে অধ্যক্ষ সুন্নত আলী স্বাক্ষর জাল করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে আমিনুল ইসলাম, মিজানুর রহমান রানা, খায়রুল ইসলাম ও রেজাউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন (নং-২৩১/১৯)।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে এক্সপার্ট দ্বারা স্বাক্ষর যাচাই করা হলে ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল দেওয়া প্রতিবেদনে অধ্যক্ষ সুন্নত আলীর পক্ষে মতামত প্রদান করা হয়।
পরে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর শিক্ষা আপিল ও আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য আবেদন করেন তিনি। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর শিক্ষা বোর্ড সব নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে।
অবশেষে ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বোর্ড জানায়, আদালতে তার চাকরির বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় স্বপদে দায়িত্ব পালনে সুন্নত আলীর কোনো বাধা নেই। একই সঙ্গে তাকে শূন্য পদে বহাল করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ডকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর প্রেক্ষিতে কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সেই নির্দেশ অনুযায়ী রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে অধ্যক্ষ সুন্নত আলী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে আবারও স্বপদে বহাল হন।