মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় লাল পাম উইভিল পোকার আক্রমণে তাল গাছের ব্যাপক ক্ষতি শুরু হয়েছে। উপজেলার চিতলা পাট বীজ ভিত্তি খামার এলাকায় প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়। বিষয়টি জানার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বৈজ্ঞানিক প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে আনেন।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে ঈশ্বরদী, পাবনার বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে তিন সদস্যের একটি বৈজ্ঞানিক দল গাংনীতে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা নিশ্চিত করেন, লাল পাম উইভিল পোকার আক্রমণেই তাল গাছের সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পোকার লার্ভা গাছের কাণ্ডের ভেতরে ঢুকে নরম অংশ খেয়ে ফেলে। ফলে গাছে দুর্গন্ধ ও পচন দেখা দেয়। আক্রান্ত গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, পাতা শুকিয়ে ঝুলে যায় এবং একপর্যায়ে গাছ মারা যায়। কাণ্ডে ছোট ছিদ্র ও রস বের হওয়া এ রোগের অন্যতম লক্ষণ।

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট ঈশ্বরদী পাবনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ নুর আলম জানান, আক্রান্ত গাছগুলোকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। তবে সুস্থ গাছগুলো যাতে আক্রমণের শিকার না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক ও প্রয়োগের মাত্রা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বৃক্ষপ্রেমী ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন জানান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় তিনি প্রায় সাড়ে তিন লাখ ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেছেন। সম্প্রতি তার তত্ত্বাবধানে বপন করা তাল গাছের চারা শুকিয়ে যেতে দেখে তিনি কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি কৃষি বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে তদন্ত করে প্রাথমিক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক প্রতিনিধি দলকে আহ্বান জানানো হয়। তাদের পর্যবেক্ষণে লাল পাম উইভিলের আক্রমণই ক্ষতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মেহেরপুরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, বৈজ্ঞানিকদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যা ও প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হলে সুস্থ তাল গাছগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এ সময় ড. মোঃ শামসুদ্দিন আরোফিন, চিতলা পাট বীজ ভিত্তি খামারের জেডি মোর্শেদ খানসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।