মেহেরপুরের গাংনী হাটবোয়ালিয়া সড়কে শুরু হয়েছে আধুনিক পদ্ধতির সিঙ্গেল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট এসবিএসটি সংস্কার কাজ। দীর্ঘদিনের ফাটল ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের মাধ্যমে এখন ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরছে এলাকাবাসীর মাঝে। সড়ক বিভাগ বলছে, এটি মূলত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের একটি কার্যকর ও বহুল প্রচলিত প্রযুক্তি, যা সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মোট ৪ কিলোমিটার ৮২৫ মিটার (প্রায় ৫ কিলোমিটার) সড়কে এসবিএসটি কাজ চলছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মোঃ শফিকুর রহমান, মল্লিকপাড়া, মেহেরপুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়রা জানান, কাজ শুরুর পর সড়কে চলাচলে আগের তুলনায় অনেক সুবিধা হয়েছে। হেমায়েতপুরঞ্জ গ্রামের বজলুর রহমান বলেন, “রাস্তা সংস্কার করাতে আগের তুলনায় রাস্তাটা বেশ ভালো হয়েছে। এখন মানুষ ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারছে। তবে রাস্তার দুই পাশ আরও কিছুটা প্রশস্ত করা হলে আরও ভালো হতো।”
রাজারপাড়া হেমায়েতপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেন বলেন, “এই ধরনের কাজ আগে দেখিনি। আগে পিচের সঙ্গে মোটা পাথর ব্যবহার করা হতো। এবার পিচের ওপর ছোট পাথর ছিটিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে রাস্তার ভাঙা অংশগুলো মেরামতের পর এখন দেখতে অনেক ভালো লাগছে।”
এদিকে কিছু এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন পদ্ধতি নিয়ে কৌতূহলও দেখা গেছে। গজাড়িয়া হেমায়েতপুর গ্রামের সেন্টু মন্ডল বলেন, “এ ধরনের কাজ আগে দেখিনি, তাই শুরুতে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ ছিল।”
মেহেরপুর সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মনসুর রহমান জানান, এসবিএসটি মূলত ফাটলযুক্ত সড়কে পানি প্রবেশ রোধের জন্য করা হয়। এতে বিটুমিন গরম করে সড়কে ছিটিয়ে তার ওপর ছোট পাথর ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত পাথর পরে ঝাড়ু দিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়। তিনি বলেন, “এটি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি। কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।”
মেহেরপুর সড়ক বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, “এসবিএসটি বা সিঙ্গেল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট দেশের বিভিন্ন এলাকায় বহুল ব্যবহৃত একটি রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি। এর মাধ্যমে সড়কের ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হয় এবং সড়কের স্থায়িত্ব বাড়ে। এলাকায় এ প্রযুক্তির প্রচলন কম থাকায় অনেকের কাছে বিষয়টি নতুন মনে হচ্ছে।”