মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রী মৌসুমী খাতুনের (৩৭) বাম হাতের অনামিকা আঙুলের অর্ধেক অংশ কামড়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুজন আলীর (৩৮) বিরুদ্ধে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের বাজারপাড়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে বেতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আহসান আলীর মেয়ে মৌসুমী খাতুনের সাথে একই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে সুজন আলীর বিয়ে হয়। দম্পতিটির তিনটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পেশায় বামুন্দী বাজারের একজন দর্জি সুজন আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাশক্ত।
অভিযোগ উঠেছে, নেশার টাকার জন্য সে প্রায়ই স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাত। শনিবার রাতে সুজন বাড়িতে এসে স্ত্রীর সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়। স্ত্রী বিবাদ করতে নিষেধ করলে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। একপর্যায়ে সে মৌসুমীর বাম হাতের অনামিকা আঙুলে কামড় দিয়ে অর্ধেক অংশ ছিঁড়ে ফেলে এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এ সময় তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে তাহিদুল ইসলাম মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে ও ডান হাতের কয়েক স্থানে কামড়ে রক্তাক্ত জখম করে সুজন। পরবর্তীতে তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করায়।
এ ঘটনায় আহত মৌসুমী খাতুন বাদী হয়ে গাংনী থানায় উপস্থিত হয়ে স্বামী সুজন আলীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীর আঙুল কামড়ে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর: ১৩, তারিখ: ১১/১০/২০২৬ খ্রি.) দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সুজন আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।