মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ভিজিএফের চাল বিতরণের স্লিপ দেওয়া কেন্দ্র করে বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরের দিকে গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু (৬০), তার সমর্থক রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বকুল হোসেন (৪০)। অপরদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের পক্ষের খাইরুল (৪০) ও রাসেল (২৫) আহত হয়েছেন। তাদের বাড়ি গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর ইউনিয়নে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু তার সমর্থকদের নিয়ে কড়ুইগাছি গ্রামস্থ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান। এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের সমর্থকরাও সেখানে অবস্থান করছিলেন।
এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৪ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সরকার পরিবর্তনের পর রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওয়ার্ড সদস্য সারগিদুল ইসলামকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু ও তার সমর্থকদের দাবি, সারগিদুল ইসলাম অবৈধভাবে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু বলেন, “যিনি দীর্ঘদিন ধরে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে প্যানেল চেয়ারম্যান নন। তিনি নিজের পছন্দের লোকজনকে ভিজিএফের চাল দিচ্ছেন এবং প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করছেন।
অন্যদিকে রায়পুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম বলেন, “একটি পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে হামলার পরিকল্পনা করছে এমন খবর পেয়ে পরিষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলাম।”
গাংনীর এলাঙ্গী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল কুমার জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।