মেহেরপুরের গাংনীতে এক হৃদয়বিদারক ও বিভ্রান্তিকর ঘটনায় দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত দাফন করা হলো না একটি লাশ। স্বজন ভেবে যাকে ঘরে তোলা হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে জানা গেল সেটি তাদের প্রিয় মানুষটি নয়! ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের পুরাতন মটমুড়া গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের শুকুরকান্দি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নিহত হন। স্থানীয়দের খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
রোববার সকাল ১০টার দিকে পুরাতন মটমুড়া গ্রামের মৃত রহিম মন্ডলের ছেলে, মানসিক ভারসাম্যহীন আবেদ আলী নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার থানায় এসে লাশটি দেখে সেটিকে আবেদ আলী (৫৫) বলে শনাক্ত করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
স্বজন হারানোর শোকে মুহ্যমান পরিবার দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। কবর খোঁড়া হয়, কাফনের কাপড় কেনা হয়, স্বজন ও প্রতিবেশীরা শেষ বিদায়ের জন্য জড়ো হন।
কিন্তু বাড়িতে লাশ ধোয়ানোর সময় পুলিশের ব্যাগ খুলতেই ঘটে চরম বিস্ময়কর ঘটনা। পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন এ লাশ তাদের আবেদ আলীর নয়! মুহূর্তেই কান্না আর বিভ্রান্তিতে ভেঙে পড়ে পরিবার। পরে আবার পুলিশে খবর দিয়ে লাশটি থানায় ফেরত দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, ‘প্রাথমিকভাবে পরিবার লাশটি শনাক্ত করেছিল। পরে ভুল ধরা পড়ায় লাশটি পুনরায় উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’
একদিকে স্বজন হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে দাফনের প্রস্তুতির পর এমন বিভ্রান্তি সব মিলিয়ে ঘটনাটি এলাকাবাসীর মনে গভীর বেদনার ছাপ ফেলেছে।