মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হিজলবাড়ীয়া গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, তাদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আদায় করা হলেও মেয়াদ শেষে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে ভুক্তভোগী ১০ বছর মেয়াদী বীমা চুক্তির আওতায় নিয়মিত কিস্তির মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও লাভসহ জমাকৃত অর্থ তারা এখনো ফেরত পাননি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে বছরের পর বছর তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মাঠকর্মী ও সাহারবাটি ইউনিয়নের কিবরিয়া নামের একজন কর্মী, জামায়াতে ইসলামী দলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুল আলম এবং একই ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামের সাবেক সভাপতি বাবলু বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তারা রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং পুলিশ দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন ভুক্তভোগীরা।

হিজলবাড়ীয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রাহকদের প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা তার কাছে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু জানান, ভুক্তভোগীরা তার কাছেও মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গ্রাহকদের দাবিকৃত টাকা অবিলম্বে ফেরত দেওয়া উচিত। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।”

অন্যদিকে, হিজলবাড়ীয়া গ্রামের বীমা কর্মী মৃত আতাহার আলী বিশ্বাসের ছেলে আলাউদ্দিন বাবলু জানান, কোম্পানির কাছে তার নিজেরও ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা আটকে রয়েছে। তিনি বলেন, “কোম্পানির আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে, তবে ধৈর্য ধরলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।”
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”