সংসারের হাল ধরতে আফ্রিকা গিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম। ফিরে এলেন লাশ হয়ে। শফিকুল ইসলাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোশটাকা ইউনিয়নের কাষ্টদহ গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে।
১২ বছর কাতারে থাকার পরেও সংসারের তেমন উন্নতি করতে পারেনি। তাই সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় আবারো পাড়ি জমায় আফ্রিকাতে।
নাগরিকত্ব পেয়ে সেখানে বিয়ে করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বেশ ভালই দিনকাল অতিবাহিত হচ্ছিল। হঠাৎ করেই ঘটে স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য। স্ত্রী আফ্রিকান হওয়ায় শফিকুলকে জিম্মী করে প্রায়শই জোরপূর্বক অর্থ আদায় করতো। এ ঘটনা শুনে পরিবারের লোকজন তাকে দেশে ফিরে আসার পরামর্শ দেয়। শফিকুল ইসলামও দেশে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কিন্তু বিধি বাম, ঘটে বিপত্তি।
সোমবার (১০ জুলাই) হঠাৎ তার সহকর্মীরা শফিকুলের হাত-পা বাঁধা গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি শফিকুল ইসলামের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে জানানো হয়। এর পর থেকে গোটা পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। শনিবার (১৫ জুলাই) শফিকুলের লাশ এসে ঢাকায় পৌছায়।
পরিবারের পক্ষে চাচাতো ভাই দিনাজ আলী (মহুরী) মৃতের লাশ গ্রহণ করে। রোববার (১৬ জুলাই) সকালে লাশ এসে গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনরা।
রোববার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টায় নিজ গ্রামে জানাজার নামাজ শেষে দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।
গাংনী থানা অফিসার ইনচার (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে গভীরভাবে জানার জন্য শফিকুল ইসলামের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।