মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামে একটি মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বশত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি কামরুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে পুকুরের মাছ পানির ওপর ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি পুকুর মালিককে জানান। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দেখেন, পুকুরজুড়ে মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং অনেক মাছ পানির ওপর খাবি খাচ্ছে। পরে বিভিন্নভাবে মাছ রক্ষার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ মাছ মারা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত সূত্রে জানা গেছে, গাংনী বাজারের জামান গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী ও মাছচাষি কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশের প্রায় তিন বিঘা আয়তনের একটি পুকুরে পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ চাষ করে আসছিলেন। পুকুরে ৮ থেকে ১২ কেজি ওজনের প্রায় এক হাজার পাঙ্গাস মাছ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেলাপিয়া মাছ ছিল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাছগুলো বাজারজাত করার প্রস্তুতি চলছিল।
কামরুজ্জামান অভিযোগ করেন, বুধবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। এর ফলে রাতারাতি অধিকাংশ মাছ মারা যায়। পরে পুকুর থেকে মাছ তুলে বিক্রির চেষ্টা করা হলেও বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় সেগুলো বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। এতে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, “ বৃহস্পতিবার ভোরে কামরুজ্জামান চাচার ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি পুকুরের মাছগুলো খাবি খাচ্ছে। পরে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাছগুলো বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা।”
ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি কামরুজ্জামান বলেন, “মাছগুলো বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। ঠিক সেই সময় পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে আমার বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
গাংনী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মীর জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
গাংনী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আল মামুন জানান, বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।