মেহেরপুরের গাংনীতে প্রতিপক্ষের হামলায় মমতাজ খাতুন (৫০) নামের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি হয়েছে। বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের পীরতলা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মমতাজ পীরতলা গ্রামের ঈদগাহ পাড়ার দুবাই প্রবাসী মাসিরুল ইসলামের স্ত্রী।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় , ঘটনার দিন বিকেলে আরমান আলীসহ তার ছেলেরা আরজুল্লাহ এর দখলে থাকা জমি নিজেদের দাবি করে জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। আরজুল্লাহ বাধা দিলে প্রতিপক্ষ আরমান, সোহেল, জসিম, জব্বার ও রুবেলসহ তাদের স্ত্রীরা হঠাৎ করে হামলা করে মারধর শুরু করে। এ সময় মমতাজ খাতুন তার শশুর আরজুল্লাহকে ঠেকাতে গেলে শ্বশুরকে ছেড়ে তাকে সকলে মিলে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও কিল ঘুষি মেরে বাম হাতটি সাময়িকভাবে অকেজো করে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে নীলা ফোলা জখম করে অজ্ঞান করে ফেলে।
হামলার শিকার মমতাজ খাতুন জানায়, আরমানসহ ছেলের বউ ও ছেলেরা প্রকাশ্য দিবালোকে তাদের আঙ্গিনায় অনধিকার প্রবেশ করে তার শ্বশুর ও তাকে পিটিয়ে হাত ভাঙ্গাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নীলা ফোলা জখম করে পালিয়ে যায়। হামলার আঘাতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি দেখা দিলে ভর্তি রাখা হয়।
আহতের শিকার মমতাজ খাতুন আরো জানান এ বিষয়ে গাংনী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতের শশুর আরজুল্লাহ বাদী হয়ে ফরমান আলী ও তার ছেলেদের নামে মেহেরপুর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকে প্রতিপক্ষরা বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে ভাঙচুরসহ বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে বলেও মমতাজ খাতুন।
গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।