মেহেরপুরের গাংনীতে মেয়ের দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় পিতা আশারুল ইসলাম (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার করমদি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আশারুল ইসলাম করমদি কাজীপাড়ার আয়েজ উদ্দিনের ছেলে। শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ তারিখে ভুক্তভোগী নারী গাংনী থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন যে, তার পিতার বাড়িতে বসবাসকালে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার সময় রাতের খাওয়া শেষ করে যার যার ঘরে দরজা ভিড়ায়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ওই দিন দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত অনুমান দুই টার দিকে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে কারো স্পর্শ অনুভব হওয়ায় তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। সে ঘুম থেকে উঠে তার মোবাইলের আলোতে দেখে যে, তার পিতা আশারুল হক (৪৫) তার বিছানায় বসে আছে। সে তাকে জিজ্ঞাসা করে ‘‘আব্বু তুমি এতো রাতে এখানে কি করো’’ এই কথা বলার সাথে সাথে আসামী কোন কথা না শুনে তার বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর পূর্বক উপর্যুপরি ধর্ষণ করে।
ধর্ষণ শেষে আসামী তার নিজ কক্ষে চলে যায়। সে তার পিতার এহেন কাজের ফলে জ্ঞান শুন্য হয়ে নিজেকে ছয় দিন র্পযন্ত ঘরে বন্দি করে রাখে। ভিকটিমের মা ভিকটিমকে ঘরথেকে বের না হবার কারণ জানতে চাইলে ভিকটিম তার মাকে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে। ভিকটিম তার মাকে জানায় পূর্বেও তার পিতা আসামী আশারুল হক বিভিন্ন সময়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতো কিন্তু লজ্জায় এ কথা কাউকে বলতে পারেনি। পরবর্তীতে গত ইং ১৪ মার্চ তারিখে থানায় এসে ভিকটিম এজাহার দায়ের করলে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু পূর্বক সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামীকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার মাকসুদা আখতার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধর্ষণের ঘটনায় গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী ওই নারী। মামলা নং-১৭ তারিখ-১৪/০৩/২৫ ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(১)এর সংক্রান্ত। ওই মামলার আসামিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।