মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা এইচ.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ (৫) বিরুদ্ধে সপ্না নামের এক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) স্বপ্না খাতুন (১৭) নামের ওই শিক্ষার্থী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, মেহেরপুরে মামলাটি দায়ের করেন।
রাজু আহমেদ (৫০) মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে এবং এইচ.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০২১ সালে হাড়াভাঙ্গা এইচ.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন তিনি। এরপর ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের দিন প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে পিওনকে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে প্রথমবার তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
এরপর স্কুলের অফিস রুম ও বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ধর্ষণ, ভয়ভীতি, হুমকি ও ‘ভালো রেজাল্ট, বেতন মওকুফ, ক্যাপ্টেন করার’ প্রলোভন দেখান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, রাজু আহমেদ মোবাইলে নিয়মিত অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতেন, ভিডিও কল করে যৌন হয়রানি করতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কুষ্টিয়া শহরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতেন।
এজাহারে উল্লেখ আছে বিষয়টি শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিকভাবে লাঞ্ছনার মুখে পড়েন স্বপ্না খাতুন। পরে তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন।
পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তারিখ বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে প্রধান শিক্ষক তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলেও শিক্ষার্থী স্বপ্না খাতুন দাবি করেছেন। বাদী আরো অভিযোগ করে বলে, “মেহেরপুর কাজী অফিসে গিয়ে পরদিন কাবিন করবে।” কিন্তু কাজী অফিসে অপেক্ষা করলেও রাজু আহমেদ কাজী অফিসে যাননি।
পরে হতাশ হয়ে বাদী তার মোবাইলে থাকা কিছু যৌন হয়রানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন এবং বিয়ের দাবি উত্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য তুলে ধরেন। রাজু আহমেদ বিয়েতে রাজি না থাকায় এলাকাবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মানববন্ধন করে প্রধান শিক্ষকের বিচার ও স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার বিষয়ে দেশ টিভি ও বিভিন্ন গণমাধ্যম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বাদীর অভিযোগ স্থানীয় থানায় মামলা করতে গেলেও আসামী ক্ষমতাবান হওয়ায় তারা কোনো প্রতিকার পাননি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হন এবং
২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭ / ৯(১) / ১০ ধারায় মামলা দায়ের করে। বাদীর পিতা জিল্লুর রহমানসহ অন্তত ৭ জন সাক্ষীর নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী খন্দকার একরামুল হক হীরা এবং শাহরিয়ার হোসেন শাওন আদালতের নিকট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (W/A) জারির আবেদন জানিয়েছেন।