মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ধলা গ্রামে জামাল উদ্দিন হত্যা মামলায় বাচ্চু মিয়া এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মেহেরপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস. এম. নাসিম রেজা এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাচ্চু মিয়া মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামের আব্দুল লতিবের ছেলে।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট সাইদুর রাজ্জাক টোটন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত বাচ্চু মিয়ার স্বজনদের আহাজারিতে আদালত প্রাঙ্গণ ভারী হয়ে ওঠে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ধলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে ইজিবাইক চালক জামাল উদ্দিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মেহেরপুর শহরের মল্লিক পাড়ায় হাসেম মিয়ার লিচু বাগানে ফেলে রেখে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনা নিহত জামাল উদ্দিনের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মেহেরপুর সদর থানায় ৩০২/৩৪/৩৭৯ পেনাল কোড বাচ্চু মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৬। জি আর কেস নং ৩২৬/২২। সেশন কেস নং ১১০/৪। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত কাজ শেষ করে মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামের আব্দুল লতিবের ছেলে বাচ্চু মিয়াকে আটক করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার সঙ্গে জড়িতে থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন।
পরে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মেজবাহ উদ্দিন প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জসিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যে আসামী বাচ্চুমিয়া দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায় আরো দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিটরটর সাইদুর রাজ্জাক টোটন এবং আসামী পক্ষে রেহান উদ্দিন মনা কৌঁশলী ছিলেন।