রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

মেহেরপুর মুজিবনগরের নাম মুক্তিপুর বা মুক্তিনগর কেন রাখা হয়নি – মনির হায়দার 

তোফায়েল হোসেন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৫১ বার পঠিত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুজিবনগরে কোন দিন আসেন নাই। মুজিবনগরের পূর্বেকার নাম বৈদ্যনাথতলা। বৈদ্যনাথতলাতেই ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার গঠনের শপথস্থল হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাহলে বৈদ্যনাথতলার নাম মুক্তিপূর বা মুক্তিনগর কেন রাখা হয়নি। এটা আমার বোধগম্যে আসে না। প্রশ্নটা রেখে গেলাম মেহেরপুর জেলা ও দেশবাসীর জন্য।

শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে গাংনী উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত দলীয়, সকল সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে উপজেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ক মতবিনিবের সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ কথা বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার।

তিনি আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থান চাই। বাংলাদেশ একটা রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে একটা অত্যন্ত সোহার্দপূর্ণ পরিবেশে সবাই সহাবস্থান করবে, সকলের ন্যায্য অধিকার থাকবে, কেউ বঞ্চিত হবে না, আমরা এই তত্ত্বে বিশ্বাসী এই কর্মেও বিশ্বাসী। কিন্তু আমরা জানি এই বাংলাদেশে বিগত ১৬ বছরে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অধিকার জিম্মি হয়ে গিয়েছিল। ততটুকু অধিকার পেতাম যতটুকু দয়া করে দেয়া হতো। আমার কতটুকু অধিকার সেটা আমার মতই আর একজন নির্ধারণ করে দিত। এই পদ্ধতিতে গোটা দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছিল। আমরা যেটাকে বলি ফ্যাসিবাদ, যেটাকে বলি মাফিয়া তান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা।

এমন এক শাসকগোষ্ঠী আমাদের বুকের উপর চেপে বসেছিল যারা শুধু আমাদের অধিকারগুলো কেড়ে নেয়নি, আমাদের নানারকম নিপীড়ন, নির্যাতনের দিকে ফেলে দিয়েছিল। আমরা নিজেদেরকে নিয়মিত নাগরিক ভাবতে ভুলে যাচ্ছিলাম। ওই মাফিয়া চক্র এমন এক পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিল প্রতি পাঁচ বছর পর পর জনগণকে একটা নির্বাচনে ভুয়া নির্বাচনী খেলা দেখিয়ে বলতো আমরা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। আগামী পাঁচ বছর আমাদেরকে আর কেউ সরাতে পারবে না। আমাদের যে রাজত্ব এটা বহাল থাকবে। এটাতে আমরা এক প্রকারের অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। চেষ্টা ছিল আকাঙ্ক্ষা ছিল তারপরও মনে হচ্ছিল এ অবস্থার মনে হয় আর অবসান হবেনা। এক প্রচন্ড হতাশাজনক ও অন্ধকারময় জীবনে নেমে এসেছিল।

কিন্তু আল্লার অশেষ রহমত আমরা ভাবি একরকম, আমাদের কল্পনা শক্তি একটা পর্যায়ে গিয়ে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে ঘটে তার চাইতেও অনেক বেশি কিছু। আমাদের জীবনে জুলাই অভ্যর্থান নামে একটা পর্ব আসলো যেটা জুলাই ও আগস্ট মাস মিলে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল মুক্তি পাওয়া। পাকিস্তানের শাসন শোষণ থেকে মুক্তি পাওয়া এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধ না হলে আমরা এই ভূখণ্ড পেতাম না। তাহলে মুক্তিযুদ্ধকে খাটো ভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সেটা তার মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আছে এবং থাকবে। তাই বলে কি ৫ আগস্টের গণঅভ্যর্থনের কথা আমরা কেন বলতে পারব না ? দুটো ঘটনাই মুক্তির চেতনা। দুটো ঘটনাকেই আমরা মুক্তির ঘটনা হিসেবে উপরে তুলে ধরি।

সভার শুরুতেই প্রধান অতিথি সকল বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বরণ, গত ৫৩ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যত শহীদ আছে সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন। সর্বোপরি ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে যে সমস্ত তরুণ তাজা প্রাণ তাদের জীবন অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে আমাদের এক ভয়ংকর মাফিয়া তান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এবং আজকে এখানে বসে কথা শোনা ও বলবার সুযোগ করে দিয়েছে, সে সকল লড়াকু বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং যারা প্রায় ৩০ হাজার বা তারও বেশি গুরুতর আহত, অঙ্গহানি হয়েছে, হাসপাতালের বিছানায় মাসের পর মাস শুয়ে আছেন তাদের আসু সুস্থতা কামনা এবং কৃতজ্ঞতা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন এঁর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল, জেলা বিএনপি’র সাবেক সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি রেজাউল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাংনী শাখা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান, গাংনী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, এনসিপির অংগ সংগঠন জাতীয় যুব শক্তির সংগঠক মুজাহিদুল ইসলাম,

সভাপতি গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজ আব্দুর রাজ্জাক, ১ নম্বর কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ, বামন্দি ৪ নম্বর ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম, বাঁশবাড়িয়া টেকনিক্যাল কলেজ এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এর অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন, গাংনী আলিয়া মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আহসান হাবীব, গাংনী দারুচ্ছালাম জামে মসজিদের ইমাম রুহুল আমিন, গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানুন, গাংনী প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ উদ দোলা রেজা, গাংনী বাজার কমিটির সভাপতি ইঞ্জিঃ সালাউদ্দিন শাওন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে মাননীয় প্রধান অতিথিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 gangnisongbad.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
ThemesBazar-Jowfhowo