রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

গাংনীতে ভুয়া পাট চাষীদের প্রশিক্ষণার্থী দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ 

তোফায়েল হোসেন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৭ বার পঠিত

বাস্তবে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ৪৩ থেকে ৪৪ জন, অথচ বরাদ্দ ৭৫ জনের। আবার যারা পাট উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তারাও প্রকৃতপক্ষে পাট চাষী নন। এভাবেই চলছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা পাট কর্মকর্তার কার্যালয়ের আওতাধীন ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রশিক্ষণ। “উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন সম্প্রসারণ প্রকল্প” প্রশিক্ষণে অনিয়ম ত্রান্তিকভাবে শুধুমাত্র একটি কোর্স থেকেই হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা এমন অভিযোগ প্রশিক্ষণ না পাওয়া পাট চাষীদের।

প্রকৃত পাট চাষীরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের প্রকৃত পাট চাষীদের পাট কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে প্রশিক্ষণ দেয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অসাধু কর্মকর্তার জন্য তা উপেক্ষিত হচ্ছে বারবার। সরকারের নেয়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার এই উদ্যোগ ব্যর্থ হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে থাকা অসাধু কর্মকর্তার জন্য। নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি না থাকার সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু কর্মকর্তারা।

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের এলাঙ্গী গ্রামের পাট চাষী আব্দুল বারেকের ছেলে আশাদুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতিবছর দুই বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেন। তবে কোনদিনই পাটের প্রশিক্ষণ পান নাই। তাছাড়া কারা এই প্রশিক্ষণ পান সেটাও তিনি জানেন না।

একই কথা জানিয়েছেন কাজিপুর ইউনিয়ন ও কাজিপুর গ্রামের পাট চাষী মুরাদ আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন ও নওদাপাড়া গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে সাহাজুল ইসলাম।

স্থানীয় প্রকৃত পাট চাষীরা মনে করছেন, বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে। প্রকৃত কৃষককে বাদ দিয়ে এই ধরনের প্রশিক্ষণ শুধু সরকারের অর্থের অপচয়ই নয়, বরং কৃষি উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায়।

গাংনী উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা এরশাদ আলী জানান, ৭৫ জনের মধ্যে ৬৫ জন প্রত্যাশী উপস্থিত ছিল। প্রকৃতপক্ষে ৪৩-৪৪ জন প্রশিক্ষনার্থীকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দেখা গেছে। বাকি প্রশিক্ষনার্থীরা কোথায় ছিল ? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান হয়তো বাইরে গিয়েছিল। প্রকৃত পাট চাষীদের তালিকা প্রস্তুত করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থী পাট চাষী নন এটা কেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান জেলা কর্মকর্তা জানেন।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আমাকে প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃত পাট চাষীদের তালিকা বিষয়ে কোনো সমন্বয় করেন নাই। তিনি চাইলে প্রতিটি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিতে পারেন। এতে করে প্রকৃত পাট চাষীদের তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আ.কা.ম হারুন অর রশিদ উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কথার বিরোধিতা করে জানান, উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণের জন্য প্রকৃত পাট চাষীদের মধ্য থেকে তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা রয়েছে। তা না করে থাকলে তিনি অন্যায় করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, গাংনী উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণের জন্য প্রকৃত পাট চাষীদের তালিকা প্রস্তুত করার কথা। এটা না করে থাকলে অন্যায় করেছেন। তাছাড়া প্রকৃত নিপাট চাষী নির্বাচনের ক্ষেত্রে গাংনী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাথে সমন্বয় থাকা জরুরী, তাহলে এধনের অন্যায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 gangnisongbad.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
ThemesBazar-Jowfhowo