মেহেরপুরের গাংনী বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমের প্রথম লিচু মোজাফফরপুরী বা আটি লিচু। তবে বাজারে দাম চড়া হওয়ায় ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন চাহিদা কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না লিচু।
গাংনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উপজেলায় ১২৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯১৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ২০ হেক্টরে মোজাফফরপুরী, ৮০ হেক্টরে বোম্বাই এবং ২৫ হেক্টরে চায়না-থ্রি জাতের লিচু রয়েছে।
বুধবার (৬ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, গাংনী বাসস্ট্যান্ড, বামন্দি, সাহারবাটি, জোড়পুকুরিয়া, নওপাড়া ও ধানখোলা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে বসে লিচু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। মৌসুমের প্রথম ফল হিসেবে অনেকেই শখ করে বেশি দামে কিনছেন।
লিচু কিনতে আসা সাঈদ হাসান বলেন, “এগুলো আশপাশ এলাকার আটি লিচু। প্রতিবছরই আগে ওঠে। তবে এবার স্বাদ পুরোপুরি মিষ্টি না হওয়ায় ক্রেতা কম। গত বছর ১০০-১৪০ টাকার লিচু এবার ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”
লিচু বিক্রেতা খলিলুর রহমান বলেন, “সারা বছর অন্য ব্যবসা করি, এ সময় আম-লিচু বিক্রি করি। আজ সকালে ১ হাজার লিচু এনেছিলাম, বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ লিচু বিক্রি হয়েছে।”
চৌগাছা গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, বাজারে লিচুর সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম। ফলে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই কথা জানিয়েছেন মালসাদহের শিপন আলী, রামকৃষ্ণপুর ধলার আলমগীর ও সাহারবাটির উজ্জ্বলসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও।
শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আজমুল বারী রতন বলেন, “অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর ফলন কম, দাম বেশি। স্বাদে কিছুটা টক হওয়ায় প্রথমে কিনিনি। তবে এখন কিছুটা ভালো লাগছে, তাই কিনছি।”
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, “বর্তমানে বাজারে যে লিচু পাওয়া যাচ্ছে তা মোজাফফরপুরী বা আটি লিচু। ভালো দামের আশায়, পোকার আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে এগুলো আগাম তোলা হয়। এগুলো পুরোপুরি মিষ্টি হয় না এবং বীজ বড় হয়।”
তিনি আরও জানান, আগামী ১৩-১৫ মে’র মধ্যে উন্নত মানের মোজাফফরপুরী লিচু বাজারে আসবে। ২০-২৫ মে বোম্বাই এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে চায়না-থ্রি লিচু বাজারে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।