মেহেরপুরের গাংনীতে সেচ পাম্পের মোটর চুরি রোধে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরাল (৫০) নামের এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর নলকূপের মালিকসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
নিহত নুরাল উপজেলার ধর্মচাকী গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হিজলবাড়িয়া গ্রামের একটি বোরিংয়ের (সেচ পাম্প) মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ওমর ফারুক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাহারবাটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বশিরুল ইসলাম ও স্থানীয়রা জানান, এলাকাটিতে প্রায়শই বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও মোটর চুরির ঘটনা ঘটছে। উপজেলার ধর্মচাকী গ্রামের পাশে হিজলবাড়িয়া মাঠে সাইফুল ইসলামের একটি গভীর নলকূপ রয়েছে। চুরির হাত থেকে বাঁচতে ও বাড়তি সতর্কতার জন্য সাইফুল ইসলাম তার পাম্পের পাশে লোহার অ্যাঙ্গেল মাটিতে পুঁতে তার ওপর সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ করছিলেন। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করছিলেন কৃষক নুরাল, সাহারুল ও একই নামের আরও এক কৃষক সাইফুল ইসলাম।
কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত লোহার দীর্ঘ অ্যাঙ্গেলটি ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সাথে স্পর্শ লাগে। এতে নুরাল ও পাম্পের মালিক সাইফুল ইসলাম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চিৎকার শুরু করেন। পাশে থাকা শাহারুল ইসলাম ও ধর্মচাকী গ্রামের অপর কৃষক সাইফুল ইসলাম তাদের উদ্ধার করতে গেলে তারাও আহত হন।
তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের মাঠে কর্মরত অন্য কৃষকরা দ্রুত ছুটে এসে চারজনকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওমর ফারুক কৃষক নুরালকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকি আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক কৃষকের মৃত্যু ও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।