মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মাটি খুঁড়ে রাস্তা মেরামতের সময় ১০টি অ্যান্টি-পার্সোনেল ল্যান্ডমাইন (Anti-Personnel Landmine) ও ৫টি টুলবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে মাইনসদৃশ এই বস্তুগুলোর সন্ধান মেলে। এগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিস্ফোরক হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাদু শাহ জানান, বাড়ি তৈরির ইট আনার সুবিধার্থে রাস্তার পাশে থাকা উঁচু জমির (মনি সাহেবের বাড়ির পেছন থেকে) মাটি কেটে রাস্তায় দেওয়া হয়েছিল। বৃষ্টির পানিতে সেই মাটি কিছুটা ধুয়ে যায়। এরপর শনিবার সকালে সেখানে ইট রাখতে গিয়ে মাটির নিচে প্লাস্টিকের টুলবক্স ও মাইনসদৃশ বস্তুগুলো বেরিয়ে থাকতে দেখেন তিনি।
খবরটি মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক জনতা একনজর দেখতে সেখানে ভিড় জমায়। পরে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে গাংনী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর হোসেন টকি জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার তেকালা গ্রামের ‘ব্যাংগাড়ির মাঠটি’ ছিল অন্যতম বড় একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তার ধারণা, সে সময় মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর অ্যামবুশ (অতর্কিত হামলা) করার উদ্দেশ্যে হয়তো এই অ্যান্টি-পার্সোনেল ল্যান্ডমাইনগুলো মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন। তবে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরই এগুলোর সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে। গাংনী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বলেন,”ল্যান্ডমাইনসদৃশ বস্তু পাওয়ার খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। ইতোমধ্যে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের সদস্যরা এসে বিস্তারিত পরীক্ষা করার পরই এগুলোর আসল পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে।”
আপাতত ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে এবং বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের আগমন ও পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী।