২০০৬ সালে ছোট্ট পরিসরে শিশুশ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল মেহেরপুরের গাংনী পৌর এলাকার ‘লাইসিয়াম হাইস্কুল’। সময়ের পরিক্রমায় ২০১৯ সালে দশম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত হওয়া প্রতিষ্ঠানটি এবার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এনে দিয়েছে এক অনন্য গৌরব। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী তানভীর আহমাদ ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২০৩ নম্বর পেয়ে গাংনী উপজেলায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার অভূতপূর্ব কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
তানভীরের এই দুর্দান্ত জয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ পুরো এলাকায় বইছে আনন্দের বন্যা। সহপাঠী, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন মহল তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, মেধার এই সঠিক মূল্যায়নের ধারা বজায় রেখে তানভীর ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য এনে এলাকার নাম উজ্জ্বল করবে। ২০২৬ সালে বিদ্যালয়ে ৪৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল তার মধ্যে ২৬ জন ‘এ প্লাস’ এবং বাকি পরীক্ষার্থীরা সকলে ‘এ গ্রেডে’ পাস করেছে।
নিজের এই অবিস্মরণীয় কৃতিত্বে আবেগপ্লুত তানভীর আহমাদ বলে,”উপজেলায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে যে সফলতা পেয়েছি, তার জন্য আমার সম্মানীত শিক্ষকমণ্ডলী ও পরম শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে যেন শিক্ষার এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও ভালো করতে পারি, সেজন্য আমি সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।”
তানভীরের বাবা তেরাইল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জিনারুল ইসলাম ও মা গাংনী সরকারি ডিগ্রী কলেজের গণিত বিষয়ের প্রভাষক শিরিন সুলতানা ছেলের এই ফলাফলে অত্যন্ত আনন্দিত। তারা জানান, তানভীরের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও অবদানের কারণেই আজ এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক জিনারুল ইসলাম বাদল তানভীরের একাগ্রতার প্রশংসা করে বলেন, “তানভীর শুরু থেকেই একটু ব্যতিক্রমী। তার আচার-ব্যবহার, ধৈর্য্য এবং পড়াশোনার প্রতি নিষ্ঠা সত্যি মুগ্ধ করার মতো। টেস্ট পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা যেন ঢিলেঢালা হয়ে না পড়ে, সেজন্য আমাদের পরিচালক আমিরুল ইসলাম মহোদয়ের বিশেষ নির্দেশনায় ১২টি বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করা হয়েছিল। আজ আমরা তারই সুফল পেলাম।”
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের সবুজ এসএসসি রেজাল্ট ঘিরে সাম্প্রতিক ট্রেন্ডের বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাতামাতি না করে তারা যেন সামনে আরও ভালো করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা আমাদের মূল দায়িত্ব। কোন স্কুল থেকে পাশ করল সেটা বড় কথা নয়, এরা সবাই আমাদের সন্তান। তানভীরের এই গৌরবময় অর্জনে আমার ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।”
লাইসিয়াম হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আমিরুল ইসলাম তানভীর ও তার বাবা-মাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,”২০১৯ সালে দশম শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ার পর থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন মেডিকেল কলেজসহ দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে জায়গা করে নিয়েছে। শিক্ষকমণ্ডলীর নিরলস প্রচেষ্টা ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় আজ আমরা এই সুনাম অর্জন করতে পেরেছি। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
তানভীরের এই সাফল্য গাংনীর অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে এবং ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যগাথায় যোগ করেছে এক নতুন পালক।