মেহেরপুরে হারানো ৮২টি মোবাইল ফোন ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া নগদ অর্থ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে এবং জেলা পুলিশের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসজুড়ে জেলার তিন থানায় দায়ের হওয়া সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব মোবাইল ফোন ও অর্থ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের মধ্যে মেহেরপুর সদর থানার ৩৭টি, গাংনী থানার ২৯টি এবং মুজিবনগর থানার ১৬টি রয়েছে।
এ ছাড়া ভুলবশত অন্য নম্বরে পাঠানো এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া বিকাশ ও নগদের ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ১৮টি ফেসবুক আইডি ও ৯টি হোয়াটসঅ্যাপ আইডি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ দুই ব্যক্তিকে উদ্ধারে সহায়তা করেছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওটিপি কাউকে দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, পুরোনো মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই ক্যাশ মেমো ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। সাইবার অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে জেলার বিভিন্ন থানার পাঁচটি প্রতারণা মামলায় মোট ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোহাম্মদ আতিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. জামিনুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মেহেদি হাসান দিপু, ওসি (ডিবি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।