মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে গত চার-পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ, যারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্লিনিকেই নেই প্রয়োজনীয় কোনো ওষুধ। ফলে প্রতিদিন রোগীরা এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। দায়িত্বরত সিএইচসিপি রোগীদের কেবল মৌখিক পরামর্শ দিয়ে বিদায় করছেন। কবে নাগাদ ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছেন না তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুল হান্নান জানান, গাংনী উপজেলায় মোট ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে এবং গত চার- পাঁচ মাস ধরে এসব ক্লিনিকে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ রোগীরা সরকারি স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ওষুধ না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ক্লিনিকগুলো। আগে যেখানে জ্বর, সর্দি-কাশি, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া যেত, এখন সেখানে সেবা মিলছে না।
ওষুধ নিতে আসা ছানোয়ার হোসেন বলেন, “এ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে আগে ভালো সেবা পেতাম। এখন ওষুধ না থাকায় বারবার এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।”
একই অভিযোগ কামরুল হোসেনের, “গরিব মানুষের জন্য এই ক্লিনিকগুলো খুবই জরুরি। ওষুধ না থাকায় আমাদের কষ্ট বাড়ছে।”
ওষুধ নিতে ফাতেমা খাতুন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, বাইরে থেকে টাকা দিয়ে ওষুধ কেনা সম্ভব না। আগে এখানে বিনামূল্যে ওষুধ পেতাম, এখন কিছুই পাওয়া যায় না।”
এলাঙ্গী ও রাইপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি ওয়াহেদুজ্জামান সোহান জানান, “চার মাস ধরে কোনো ওষুধ পাইনি। প্রতিদিন রোগীরা এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, অনেকেই বলছেন ওষুধ নয়তো আপনারা কেন এসেছেন ? এতে আমাদেরও বিব্রত হতে হচ্ছে। তারা যাতে মনঃক্ষুণ্য না হয় সেজন্য তাদেরকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অধিক চাহিদা সম্পন্ন রোগীদের হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
তেরাইল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি খাইরুল বাশার বলেন, “ প্রায় চার-পাঁচ মাস হতে চলল ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের সরবরাহ নাই। কয়েকটি আয়রন ট্যাবলেট, কৃমিনাশক ট্যাবলেট ও কয়েকটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আমার ক্লিনিকে রয়েছে। অধিকাংশ রোগীরা তাদের প্রয়োজনীয় ঔষধ পাচ্ছেন না। তবে খুব শীঘ্রই হয়তো এ পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন তিনি।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “এ সমস্যার সারা বাংলাদেশে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তবে আশা করা হচ্ছে চলতি মাসের শেষের দিকে অথবা জুন মাসের প্রথম দিকে ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যাবে। দ্রুত ওষুধ সরবরাহ শুরু হলে রোগীদের ভোগান্তি কমবে।”
এদিকে, দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করে সেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।