রোববার দিবাগত অন্ধকার রাত ২টা। পুরো মেহেরপুর বড়বাজার যখন গাঢ় ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এক মূহুর্তের আগুনে ছাই হয়ে গেল বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা একটি পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। বড়বাজার কাঁচাবাজারে অবস্থিত খ্যাতনামা পাইকারি মুদি প্রতিষ্ঠান ‘মকলেছুর এন্ড ব্রাদার্স’-এ লাগা ভয়াবহ আগুনে নিমিষেই ভস্মীভূত হয়েছে প্রায় ৮৫ লাখ টাকার মালামাল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত। আগুন লাগার পর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে নৈশপ্রহরী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। চাল, ডাল, সয়াবিন ও পাম তেল, মসলাসহ দোকানে থাকা সমস্ত পাইকারি পণ্য পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে।
দোকানের পোড়া ছাইয়ের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বত্বাধিকারী মো. মোখলেছুর জামান শাহিনের ছোট ভাই শামিম। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, “রাত পৌনে ২টার দিকে শর্ট সার্কিট থেকে দোকানে আগুন লাগে। পুরো মালামাল শেষ! আমার প্রায় ৮৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। ব্যাংকে অনেক ঋণ রয়েছে। আজ আমার পুরো পরিবার পথে বসে গেল। রাষ্ট্রের কাছে আমার আকুল আকুতি—আমাকে একটু পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিন, না হলে বেঁচে থাকার আর কোনো পথ রইল না।”
এই অগ্নিকাণ্ড কেবল একটি দোকানের ক্ষতি নয়, পুরো মেহেরপুরের ব্যবসা বাণিজ্যে এক বড় ধাক্কা। তহ-বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফি আক্ষেপ করে বলেন, মেহেরপুর জেলার অর্ধেকেরও বেশি খুচরা মুদি ব্যবসায়ীকে এই প্রতিষ্ঠানটিই পাইকারি পণ্য সরবরাহ করত। এত বড় একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ পরিণতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
একটি বৃহৎ পরিবারের রুটিরুজি ও বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু এক রাতেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারটিকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপর আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।