মেহেরপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মোশারফ হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরের দিকে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত মোশারফ হোসেন মেহেরপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়ার নুরন্নেশার ছেলে।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়:
ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল দুপুরে। মেহেরপুর শহরের নতুনপাড়ার গোভীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী (১৪) নিজ বাড়িতে বসে সেলাই মেশিনের কাজ করছিল। ওই সময় তার মা ব্যাংকে এবং দাদি বাড়ির বাইরে থাকায় শিশুটিকে একা পেয়ে প্রতিবেশী মোশারফ হোসেন বাড়িতে প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে সে চলে যায়।
সন্ধ্যায় ওই ঘরে একটি মোবাইলের রিং বাজে এবং তল্লাশির পর সেলাই মেশিনের ব্যাগের নিচ থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর মোশারফ ও তার মেয়ে এসে মোবাইলটি নিজেদের দাবি করে নিয়ে যায়। পরদিন ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও বারবার বাথরুমে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে তার মাকে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
১০ এপ্রিল ভোরে তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা আনোয়ারা আক্তার বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৯(১) ধারায় মামলা (নং-১৯, জিআর-১১২/২০২৫) দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর পারভিন সুলতানা এবং আসামি পক্ষে কৌশলী ছিলেন অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী।