মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পরিবেশ আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে গাংনীর বিভিন্ন এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকির অহম্মেদ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গড়ে ওঠা সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের এই অভিযান চলছে। আজকের অভিযানে বামন্দী এলাকার বি.বি.এল, ওলিনগরের আর.এফ.এল এবং বেতবাড়িয়া গ্রামের স্টার ইটভাটা এই তিনটি ভাটার মালিক ভবিষ্যতে ভাটা না চালানোর শর্তে মুচলেকা (অঙ্গীকারনামা) প্রদান করেন।
এছাড়া, বেতবাড়িয়া গ্রামের অবৈধ নিউ স্টার ইটভাটায় অভিযান চালানোর সময় স্থানীয়দের কিছু বাধার মুখে পড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে পরবর্তীতে ওই ইটভাটার কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বিকেলে ব্রজপুর গ্রামে পিন্টু’র ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে ইট প্রস্তুত না করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকির আহম্মেদ জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ইটভাটা চালালে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুর জেলায় বর্তমানে মোট ৯০টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ৩টির। এছাড়া প্রায় ৩০টি জিকজ্যাগ ইটভাটা থাকলেও বাকিগুলো সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করে আসছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশ ধ্বংসকারী কোনো অবৈধ ইটভাটা আর চলতে দেওয়া হবে না। মুচলেকা দেওয়া ইটভাটাগুলো পুনরায় চালু করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।