মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মানিকদিয়া গ্রাম। এই গ্রামের সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাগত উন্নয়নের ইতিহাসে একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের অবদান আজও মানুষের মুখে মুখে। সেই পরিবারের পথিকৃৎ ছিলেন আলহাজ্ব রমজান আলী বিশ্বাস।
ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত রমজান আলী বিশ্বাস
তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার গাংনী ইউনিয়ন বোর্ডের ১৯৫০ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন আলহাজ্ব রমজান আলী বিশ্বাস। তাঁর নেতৃত্বে এলাকাবাসীর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মানিকদিয়া ও এগারো পাড়া ঈদগাহ জামাত। তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।
ব্রিটিশ আমলে হিন্দু জমিদারদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঈদুল আজহার নামাজ শেষে ঈদগাহ ময়দানে গরু কোরবানি দেওয়ার সাহসী উদ্যোগও তিনিই নেন। তাঁর সেই সাহসিকতার পর থেকেই এলাকায় গরু কোরবানির প্রচলন শুরু হয়।
রমজান আলী বিশ্বাস হজ পালনের উদ্দেশ্যে গিয়ে মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই পবিত্র মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।
বিদ্যোৎসাহী শিক্ষক মোজাম্মেল হক
রমজান আলী বিশ্বাসের মৃত্যুর পর ১৯৬২ সালে এলাকাবাসীর অনুরোধে তাঁর পুত্র মরহুম আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক (বি.এ, বি.এড) ঈদগাহ জামাতের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি ছিলেন একজন মানবিক ও বিদ্যোৎসাহী শিক্ষক। হাটবোয়ালিয়া হাইস্কুলের প্রথম ব্যাচের ছাত্র হিসেবে শিক্ষা জীবন শুরু করে তিনি ম্যাট্রিক, আইএ ও বিএ পাস করেন এবং পরবর্তীতে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পরে বিএ, বিএড ডিগ্রি অর্জন করে গাংনীর বাওট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
নিজ গ্রামে আলিম মাদ্রাসা, হাফিজিয়া মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কবরস্থান প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। তিনি ১৯৬২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মানিকদিয়া ও এগারো পাড়া ঈদগাহ জামাতের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
উন্নয়নের ধারায় একরামুল হক তাজু
মোজাম্মেল হকের ইন্তেকালের পর এলাকাবাসীর অনুরোধে তাঁরই পুত্র, তাওফিকা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গাংনী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং ঢাকাস্থ মেহেরপুর জেলা সমিতির সভাপতি দাতো আলহাজ্ব মোঃ একরামুল হক তাজু নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
২০০৮ সাল থেকে তিনি মানিকদিয়া ও এগারো পাড়া ঈদগাহ জামাত, মানিকদিয়া ও এগারো পাড়া আলিম মাদ্রাসাসহ এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তাঁর নেতৃত্বে ঈদগাহ ময়দানের জন্য নতুন জমি ক্রয় করে পরিধি বৃদ্ধি, দাখিল মাদ্রাসাকে আলিম পর্যায়ে উন্নীতকরণ ও এমপিওভুক্ত করা, শিক্ষার্থীদের জন্য দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ, কবরস্থানে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং মুসল্লিদের জন্য ওযুর সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়াও এলাকার গরিব, দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন।